চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভা শুরু হয়েছে। ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় জনস্রোত নেমেছে। জড়ো হয়েছেন বিপুলসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী।
রবিবার (০৪ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এই জনসভা। এর আগে জনসভার মূল মঞ্চে বেলা সোয়া ১১টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
জনসভায় যোগ দিতে সকাল থেকেই পোস্টার, ব্যানার হাতে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে এসেছেন নেতাকর্মীরা। চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলা থেকে বাস ও ট্রাকযোগে লোকজন আসছে। ঢাক-ঢোল, বাজনার তালে তালে নেচে গেয়ে জনসভা মাঠে আসেন অনেকে। বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা গায়ে নানা রঙের জামা, মাথায় ক্যাপ পরে আসেন। বিভিন্ন ইউনিটের রিঙিন পোশাকের বর্ণিল রঙে সেজেছে পলোগ্রাউন্ড মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলো।
স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জনসভা করার আশাবাদ নিয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনগুলো। চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রায় ১১ বছর পরে অংশ নেয়া এ জনসভা নিয়ে তাদের জল্পনা-কল্পনা অনেক। সকাল থেকেই এর প্রতিফলন দেখা যায়। নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে দলে দলে লোক মাঠে ঢুকছে।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে চট্টগ্রামজুড়েই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। দুপুর সাড়ে ১২টায় দেখা যায়, পলোগ্রাউন্ড মাঠ জনতায় পরিপূর্ণ। মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেক নেতাকর্মী সামনের সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। পাশের সিআরবি, টাইগারপাস, কদমতলী এলাকায়ও নেতা-কর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
এদিকে সকাল থেকে মিছিল নিয়ে পলোগ্রাউন্ডে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ রাত জেগে সভাস্থলের প্রবেশপথে অপেক্ষা করেছেন। জনসভার প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) পৌঁছান। ওই সময় সেনাবাহিনীর প্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদসহ বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।
বিএমএতে ৮৩তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে দুপুরে পলোগ্রাউন্ড ময়দানে জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। বিকাল ৩টার দিকে জনসভায় ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে তার। কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম শহরে। সভাস্থল এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন সাড়ে সাত হাজার পুলিশ সদস্য।

