তারেক রহমানকে মহাত্মা গান্ধীর সাথে তুলনা করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্র পরিষদের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক, রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তিনি লন্ডনে থাকেন কিন্তু খুব সাধারণ ভাবে জীবন যাপন করেন। বাংলাদেশের পূণ্য ছাড়া তিনি কোনো কিছু ভাবেন না। তিনি লন্ডনে বসেও বাংলাদেশের জনগণের কথা ভাবেন। বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। তার মতো নেতা বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টা পাওয়া যাবে না। মহাত্মা গান্ধীর সাথে তার তুলনা করা যায়।’
দুদু বলেন, ‘এই দেশবাসী এত বিপদজনক অবস্থায় আছে ব্যাখ্যা করা মুশকিল। অর্থনীতি রাজনীতি সংস্কৃতি সবদিক থেকেই আমাদের দেশটা নিশানা হারা দেশের পর্যায় চলে গেছে। এই দেশকে যদি রক্ষা করতে হয় তাহলে শুধু বিএনপি নয় ছোট-বড় যে সকল দল, সংগঠন আছে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে এদেশের মানুষ এই দেশ মুক্তি পাবে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী যিনি তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তাকে চারটি বছর ধরে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। যিনি স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় নয় মাস ছোট্ট বাচ্চা নিয়ে কারাগারে বন্দী ছিলেন। এই কারণে যে, তার স্বামী স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান যখন বন্দী ছিলেন তখন কি তার পরিবার কারাগারে ছিল? এ প্রশ্ন যদি কেউ তুলে তাহলে আওয়ামী লীগ কষ্ট পাবে। কিন্তু বাস্তবতাটা কি? বেগম খালেদা জিয়া জেলে ছিলেন।’
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশ নায়ক তারেক রহমান তাকে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বক্তব্যের মধ্যে বিভিন্নভাবে উপহাস করে। তারেক রহমানকে নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন টেমস নদীর পাসে বসে কি আন্দোলন হবে। টেমস নদীর পাসে বসে যদি আন্দোলন না হয় তাহলে পাকিস্তানের কারাগারে বসে কি মুক্তিযুদ্ধ হয়? এই ধরনের কথা আসলে তখন আপনারা বলবেন এটা কি ধরনের কথা বলেন।’
দুদু বলেন, ‘এই দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন হবে এটা ছাগল, গরু, গাধাও বিশ্বাস করে না। পাকিস্তানিদেরকে আমরা হানাদার বলি, নৃশংস বলি। আসলে তারা তাই ছিলেন কিন্তু তারা সত্তরের নির্বাচন সুষ্ঠু করেছিলেন। যদিও ক্ষমতা হস্তান্তর করেন নাই। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু করেছিলেন। আর এই সরকার তো নির্বাচনই সুষ্ঠু করছে না ক্ষমতা তো পরের বিষয়।’
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি মনে করে তারা ডাকলেই সবাই নির্বাচনে যাবে এটা ভুলে যেতে হবে। আমরা তাদেরকে সম্মানজনক ভাবে বিদায় দিতে চাই। যদি তারা সম্মানজনক ভাবে নেয়। আমরা এরশাদ কে বলেছিলাম ভালো ভাবে ক্ষমতা ছাড়েন তিনি বিদায় নেন নাই। পরে তাকে খুব অপদস্ত ভাবে বিদায় নিতে হয়েছে।’
আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যেভাবেই হোক আপনারা ক্ষমতায় আছেন আপনাদের কাছে আমাদের নেতাকর্মীদের মুক্তি চাই। তবে পদত্যাগ করলে ভালো করবেন। আগামী নির্বাচন আপনাদের অধীনে হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আগামী নির্বাচন হবে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে।’
প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জিনাফ-এর সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, মুসলিম লীগের মহাসচিব আবুল খায়ের, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, মুক্তার আখন্দ প্রমুখ।

