• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সারাদেশ

চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের নতুন কমিটিতে বিদ্রোহ নালিশ যাচ্ছে লন্ডনে

প্রকাশ: সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৩ ৫:১৭
আপডেট: সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৩ ৫:১৭

চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের নতুন কমিটিতে বিদ্রোহ নালিশ যাচ্ছে লন্ডনে

চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের নতুন কমিটি নিয়ে বিরোধ তুঙ্গে। বিভাগীয় ও নগর বিএনপি শীর্ষ নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে বিদ্রোহী নেত্রীরা বলছেন, কিছু ‘স্বার্থপর’ নেতার কারণে কমিটিতে ত্যাগী ও পরিচ্ছন্নকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। সক্রিয় নেতাকর্মীদের অনেকে বাদ পড়েছেন। অনেকের হয়েছে পদাবনতি।

তারা আরও বলেন, ১৩৬ জনের কমিটি থেকে এরই মধ্যে কয়েক দফায় অর্ধশত নেত্রী পদত্যাগ করেছেন। দিন দিন পদত্যাগীদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। কমিটিতে স্থান পাওয়া কমপক্ষে ১০ জন একেবারেই অপরিচিত। আর বড় পদটি পেয়েছেন সরকারি দল আওয়ামী লীগের এজেন্ট! তিনি আমেরিকার নাগরিক। বছরের বেশি সময় থাকেন বিদেশে।

এসব অভিযোগ নিয়ে বিদ্রোহী নেত্রীরা শিগগির লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করবেন বা ভার্চুয়ালি কথা বলবেন। তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নালিশও করবেন বলে জানা গেছে।

নতুন কমিটি নিয়ে বিদ্রোহীপক্ষে নেতৃত্বে আছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম। আগের কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জেসমিনা নতুন কমিটিতে পেয়েছেন ৪ নম্বর সহসভাপতির পদ। অন্যদিকে তৃতীয় দফায় সভাপতি পদ পেলেন সাবেক কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মণি।

তিনি ২০১৯ সালে লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠান যোগ দিয়ে সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে নিয়ে আলোচিত মন্তব্য করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তোপের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কারও হন।

মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ভুল বুঝিয়ে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা তড়িঘড়ি করে নতুন কমিটি ঘোষণা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন জেসমিনা খানম বলেন, ‘মণি আপা, জেলি আপা নেতৃত্বে ছিলেন দীর্ঘ বছর। এখন তাদের মূল দলে প্রমোশন দরকার। আমরা চাই, মহিলা দলে নতুন তরুণ নেতৃত্ব বিকশিত হোক।’

নতুন কমিটিতে জ্যেষ্ঠদের পদাবনতি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে জেসমিনা খানম বলেন, ‘এবার হঠাৎ করে আইনজীবীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অথচ দলে তাদের জন্য আলাদা প্ল্যাটফরম আছে।’

তিন-চার মাস আগে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের একটি কমিটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে জানান জেসমিনা। কমিটিতে মনোয়ারা বেগম মণির নাম সভাপতি পদে দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তারেক বলেছিলেন, ‘তাকে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে।’

তারেক রহমানের সেই নির্দেশনা অমান্য করেই চুপিসারে নতুন কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ধারণা জেসমিনার। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা-অভিভাবক তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। প্রয়োজনে তার সঙ্গে দেখা করব, কথা বলব। তার কাছে বিস্তারিত জানিয়ে নালিশ দেব। কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনও চলবে। কাজ না হলে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করব। এর মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার হবে।’

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, সাবেক এমপি বেগম রোজী কবিরের সঙ্গে নতুন কমিটি নিয়ে আলাপ হয়েছে জানিয়ে জেসমিনা খানম বলেন, ‘তিনি আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ে জানাবেন। আশা করছি, শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।’

এ দিকে কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে বিদ্রোহীরা অপতৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করে মনোয়ারা বেগম মণি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় দল। দলে নেতৃত্ব নিয়ে এসব ঘটনা স্বাভাবিক। কেন্দ্র যাচাই-বাছাই করে কমিটি দিয়েছে। যারা ভালো কাজ করেছেন, তারা প্রমোশন পেয়েছেন। আর পদাবনতিও হয়েছে কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে। এখানে কারো কোনো হাত নেই।’

বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রী আঁখি সুলতানা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক গুলজার বেগম অভিযোগ করেছেন, ‘মনোয়ারা বেগম মণি আওয়ামী লীগের এজেন্ট। আমেরিকার নাগরিক। বছরের বেশিরভাগ সময় থাকেন বিদেশে। তিনি পার্টি অফিসে এলে মারামারি, চুলাচুলি হয়।’ কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এগুলো রাজনৈতিক কথাবার্তা। আমি এসবকে তোয়াক্কা করি না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানেন, আমি কে? দলে আমার অবস্থান কী?’

নতুন কমিটির সামনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগেও মাঠে ছিলাম। এখনো আছি। আগামীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে আরও চাঙ্গাভাব নিয়ে মাঠে থাকব। সরকারের পতন ঘটাব।’

গত বছরের ১০ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের এক বছর ২০ দিন পর গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্র থেকে ১৩৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মনোয়ারা বেগম মণিকে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে জেলী চৌধুরীকে। তারা দুজন তৃতীয় দফায় একই পদ পেয়েছেন। তবে কমিটি ঘোষণার পর পরই বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনটিতে। তাৎক্ষণিক পদত্যাগ করেছেন অনেকে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিগত কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জেসমিনা খানম ও শাহিদা খানম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আঁখি সুলতানা ও রেজিয়া বেগম বুলু, সহসাধারণ সম্পাদক আরজু নাহার মান্না ও সায়েরা বেগম, প্রচার সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদা আক্তার লিটা, সাংগঠনিক সম্পাদক গুলজার বেগম ও কামরুন নাহার লিজা, সহপ্রচার সম্পাদক রোকসানা বেগম মাধু, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা কাজল এবং সদস্য নাছিমা আলম, নার্গিস বেগম প্রমুখ।

জানা গেছে, মনোয়ারা বেগম মণি ২০১৯ সালের ৪ অক্টোবর লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ব্যানারে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। অনুষ্ঠানে মণি তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছিরকে ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মেয়র’ এবং ‘আ জ ম নাছির একটি বিপ্লবের নাম’ উল্লেখ করে বক্তব্য দেন। এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নগর মহিলা দলের তৎকালীন সভাপতি মণিকে বহিষ্কার করা হয়। অবশ্য ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে সভাপতির পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।