বঙ্গবাজারে বারবার ‘রহস্যঘেরা’ আগুন
পোড়া মার্কেটের জায়গা বরাদ্দ পেতে আগে থেকেই তৎপর দুটি সংস্থা * ডিএসসিসি নির্মাণ করতে চায় বহুতল ভবন, এজন্য মাটির গুণগত মানও পরীক্ষা করা হয় * অবৈধ বাণিজ্য কবজায় রাখতে পাকা ভবন তৈরিতে বাধা ব্যবসায়ী নেতারা
বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত ব্যস্ততম বঙ্গবাজারে দৃষ্টি পড়েছে একাধিক গোষ্ঠীর। ওই জমিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বহুতল মার্কেট তৈরি করতে চায়।
নিজস্ব সংস্থার নামে পুরো জায়গা বরাদ্দ পেতে অনেকদিন ধরেই তৎপর দুটি সংস্থা। আর ব্যবসায়ী নেতারা চান নিজেদের কবজায় যেমন আছে, তেমনই থাকবে বঙ্গবাজার।
চতুর্মুখী এই স্বার্থের দ্বন্দ্বে বলি হচ্ছেন এখানকার হাজারো ব্যবসায়ী। এবার নিয়ে এখানে তিন দফা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। প্রতিবারই ধ্বংস হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
মার্কেটের আগুন নিয়ে প্রতিবারই ওঠে নানা প্রশ্ন। কিন্তু রহস্য উন্মোচিত হয় না। মঙ্গলবার তৃতীয় দফায় লাগা আগুন সর্বগ্রাসী রূপ নেয়। লেলিহান শিখায় পুড়ে ছারখার হয়ে যায় বঙ্গবাজার শপিং কমপ্লেক্সের ৫ হাজার দোকান। পুড়েছে আশপাশের মার্কেটের কয়েক শ দোকানও। টানা ১০ ঘণ্টা দাউদাউ করে জ্বলা আগুনের ঘটনাকে এবারও ‘রহস্যঘেরা’ বলছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে আছে পরিকল্পিত ‘নীলনকশা।’ কারও মন্তব্য-‘ষড়যন্ত্রের আগুনে তাদের সর্বস্বান্ত করা হলো।’ এসব দাবি ও মন্তব্য করতে গিয়ে কিছু ক্লু তুলে ধরেছেন তারা। বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও বহুতল ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়ায় কারা লাভবান হবেন, তা সরকারকেই খুঁজে বের করতে হবে। এছাড়া এ জায়গা বরাদ্দ পেতে কোন কোন সংস্থা অনেক আগে থেকেই দৌড়ঝাঁপ করছে, তাও খতিয়ে দেখা দরকার। আবার হাজার হাজার ব্যবসায়ীকে ঝুঁকির মুখে রেখে কারা দীর্ঘদিন ধরে বহুতল ভবন নির্মাণে বাধা হয়ে ফায়দা লুটছে, নজরদারিতে আনতে হবে তাদের গতিবিধিও। তাহলেই আলোচিত এই মার্কেটে দফায় দফায় অগ্নিকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হতে পারে। যুগান্তরের অনুসন্ধান ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।













