কাজী সালাউদ্দিন যদিও বলছেন, ‘দায় আমাকেই নিতে হবে’, আপাতদৃষ্টে এটাকে নিছকই তাঁর একটি দায়সারা মন্তব্য বলে মনে হচ্ছে। ব্যাপারটা যেন এমন, ছাত্র পরীক্ষায় ফেল করার পর শিক্ষক হতাশ হয়ে বলছেন, ‘হ্যাঁ, আমারই হয়তো দোষ…আমিই হয়তো তাকে ঠিকভাবে পড়াতে পারিনি।’
বাস্তবে ফিফার তদন্তে উঠে আসা বাফুফের যাবতীয় অনিয়ম এবং তার পরিণতিতে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের দুই বছরের জন্য সব ধরনের ফুটবলীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ হওয়ায় বাফুফে সভাপতি হিসেবে সালাউদ্দিনের শুধু দায় স্বীকারকে অত সরল দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। ফিফার বিচারিক চেম্বারের রায়ে যদিও সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলা হয়নি, তবু এটা তো বলাই যায় যে, বাফুফে সভাপতি হিসেবে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ।
বলা হচ্ছে, এ ঘটনার জন্য দায়ী সাধারণ সম্পাদকসহ বাফুফের সেসব কর্মকর্তার ‘আলসেমি’ ও ‘উদাসীনতা’, যাঁরা ফিফার কাছে যথাযথভাবে নিজেদের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারেননি। যাঁদের হাত দিয়ে বাফুফের আর্থিক লেনদেন হয়, হিসাব–নিকাশগুলো যাঁরা দেখেন, তাঁদের অপেশাদারির মাশুল গুনতে হচ্ছে এখন।
কিন্তু ফিফার রায় বলছে, এই ঘটনা চলে আসছে সেই ২০১৬–১৭ সাল থেকে। বাফুফেকে সতর্কও করা হয়েছে একাধিকবার। নেওয়া হয়েছে ব্যবস্থাও। প্রশ্নটা তাই ওঠেই—এত বছরেও কথিত অনিয়মগুলোর কেন তিনি দৃষ্টি দেননি? এত বছরেও কি তিনি বুঝতে পারেননি, তাঁর অধস্তনরা সব লেজেগোবরে করে রাখছেন? তিনি কেন এসব সমস্যা দূর করার উদ্যোগ নেননি? নাকি সব জেনেও দৃষ্টিটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে রেখেছিলেন কোনো এক অজানা কারণে!

