নিউজ ডেস্ক
দেশের প্রায় ৫ কোটি নাগরিকের সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সরকারি আমলাদের অবিলম্বে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।
একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিসহ সাইবার অপরাধের সকল ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুসারে জনগণের কাছের অবিলম্বে উন্মুক্ত করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া জনগণের গোপনীয়তার অধিকার সুরক্ষায় এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে দশ দফা দাবিও জানিয়েছেন ওয়াহিদুজ্জামান।
শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান বিটক্র্যাক সাইবার সিকিউরিটির গবেষক ভিক্টর মারকোপাওলোস গত ২৭ জুন প্রথম দেখতে পান বাংলাদেশ সরকারের একটি ওয়েবসাইটে দেশের অনেক নাগরিকের নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, জাতীয় পরিচিতি নম্বরসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য অরক্ষিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে ভিক্টর বাংলাদেশ সরকারের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিবিষয়ক টিম কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমের (বিজিডি ই—গভ সার্ট) সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি। তথ্য ফাঁসের বিষয়ে জানতে সরকারের প্রেস অফিস, ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশি কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তথ্য-প্রযুক্তির অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চও কোনো সাড়া পায়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তথ্য ফাঁস হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেছেন যে সরকারি একটি সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে মানুষের তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি ঘটেছে কারিগরি দুর্বলতায়, কেউ ওয়েবসাইটটি হ্যাক করেনি। প্রতিমন্ত্রী ওয়েবসাইটের নাম উল্লেখ না করলেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর তালিকার ২৭ নম্বর প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে। সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৭ নম্বর প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন)।
জনগণের ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জনসাধারণের গোপনীয়তার অধিকার সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি বিশ্বাস করে, ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হলে নাগরিকরা নানা ধরনের অনলাইন ও অফলাইন ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন। এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অনলাইনে ব্ল্যাকমেইল, ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি, ভুয়া এনআইডি কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা জন্মসনদ তৈরি, ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ড থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া, ব্যক্তিগত ডিভাইসে সাইবার হামলা ইত্যাদি।’
ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে, যখন বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা গুম, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বলপূর্বক অপহরণ, হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার ইত্যাদির শিকার হয়েছে, সেখানে প্রায় পাঁচ কোটি নাগরিকের বসবাসের ঠিকানাসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে তা ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপকমাত্রায় অনলাইন নজরদারির হুমকি সৃষ্টি করে। বিশেষত, ক্যামব্রিজ এনালাইটিকার মত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি কর্তৃক বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্টের ঘটনাবলী এবং পেগাস্যাস নামক স্পাইওয়্যার দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমকর্মীদের ফোনে আড়ি পাতার দৃষ্টান্ত থেকে আমাদের এই আশঙ্কা যে, আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে এ ধরনের ব্যাপক মাত্রায় ব্যক্তিগত উপাত্ত ফাঁস বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পথে অন্তরায় হবে।’

