• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

বিশেষ কলাম

জাগো বাহে কোনঠে সবাই

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩ ২:২৮
আপডেট: শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩ ২:২৮

জাগো বাহে কোনঠে সবাই

আমিরুল ইসলাম কাগজী ও অধ্যাপক ড মোর্শেদ হাসান খান
তারেক রহমানের ডাকে জেগে উঠেছে বাংলাদেশের মুক্তিপাগল জনতা। অবৈধ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন তিনি। মহাসমাবেশের স্থান বিএনপি’র কেন্দ্রীয় অফিস নয়াপল্টনে করার জন্য পুলিশ কমিশনার অনুমোদন দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই বিএনপির নেতা কর্মীদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে বিএনপি কার্যালয়ের সামনের স্থান। অপরপক্ষে একই সময়ে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে বাইতুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ পাশে পাল্টা মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ। তাদের দাবি শেখ হাসিনার অধীনেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। একদিকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি অন্যদিকে শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন দাবি। গত একটি বছর ধরে এই পাল্টাপাল্টি দাবি নিয়ে মাঠে সরব রয়েছে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের এই পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসি তামাশা সৃষ্টি হলেও বিএনপিকে তারা অনুসরণ করেই চলেছে। সর্বশেষ হাস্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বিএনপি’র মহাসমাবেশ ২৭ তারিখ থেকে পিছিয়ে ২৮ তারিখ শুক্রবার করার মধ্য দিয়ে। ২৭ জুলাই বৃহস্পতিবার সমাবেশ করার জন্য আওয়ামী লীগ বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে মঞ্চ বানানোর সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু বিএনপি যখন ঘোষণা করল তারা মহাসমাবেশ শুক্রবার করবেন তখন আওয়ামী লীগও তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে একদিন পিছিয়ে শুক্রবার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সমাবেশের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে রপ্তানি মেলার মাঠকে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেখানে মাঠ পরিষ্কার করা হয় এবং মঞ্চ তৈরীর কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দুপুর বেলায় তারা আবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করার জন্য মঞ্চ তৈরি করছে। বিএনপি’র মহাসমাবেশের পাল্টা শো ডাউন দেখাতে বেছে নেওয়া হয় রপ্তানি মেলার এই মাঠ। কিন্তু তারা বুঝে ফেলেছে এই মাঠ তারা কর্মী সমর্থক দিয়ে ভরতে পারবে না। তাই কেলেঙ্কারির হাত থেকে বাঁচার জন্য বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণে স্বল্প পরিসরের স্থানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মাত্র ১৬ দিন আগে গত ১২ জুলাই বিএনপি নয়াপল্টনে ডেকেছিল মহাসমাবেশ আর আওয়ামী লীগ এই একই স্থানে করেছিল পাল্টা শান্তি সমাবেশ। সেদিন কাঙ্খিত লোক সমাগম করতে না পারায় এবং চেয়ার ছুড়াছুড়ি দেশবাসীর কাছে দৃষ্টিকটু লেগেছিল। শুক্রবার তাদের লোক সমাগম কেমন হবে সেটা বলা যাচ্ছে না।
কিন্তু তারুণ্যের প্রতীক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমান দুর্নীতিবাজ কর্তৃত্ব পরায়ণ অবৈধ সরকারের পদত্যাগ দাবিতে যে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন তাতে ব্যপক সাড়া মিলেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই সেখানে জমতে থাকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড়। গত ২-৩ দিন তাদের ঢাকায় আসার পথে ব্যাপক বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করা সত্ত্বেও তারা ঢাকায় পৌঁছে গেছে। মহানগর পুলিশ গতরাতে ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে বিএনপি’র পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশ মুখে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে বিএনপির নেতা কর্মীদের মোবাইল চেক করে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কি জনতার ঢল থামানো গেছে কিংবা যাবে? এখন বিএনপির কোনো নেতাকর্মী গ্রেফতারি পরোয়ানা নয় মৃত্যুর পরোয়ানা মাথায় নিয়ে সমাবেশে যোগ দেয়।
বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড করতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মহানগরীর ৫০ থানায় চিরুনি অভিযান চালানো হয়। স্বৈরাচারের পতন যখন আসন্ন তখন তারা বিরোধী দল দমনে শেষ কামড় দিতে পুলিশকে ব্যবহার করে। পুলিশকে দাঁড় করানো হয় জনতার মুখোমুখি, তাতে জনগণের বন্ধু পুলিশ মুহূর্তের মধ্যে শত্রুতে পরিণত হয়। যুগে যুগে স্বৈরাচারী সরকার কর্তৃত্ব বাদী সরকার এবং ফ্যাসিবাদী সরকার পুলিশকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জনগণের বিরুদ্ধে। একই কাজ আইয়ুব খান করেছিল, ইয়াহিয়া খান করেছিল, শেখ মুজিব করেছিল, এরশাদ করেছিল,জার্মানির হিটলার করেছিল,ইতালির মুসোলিনি করেছিল কিন্তু কেউ টিকে থাকতে পারে নাই। মুক্তিকামী জনগণের হাতে সব স্বৈরাচারের পতন হয়েছে।ফ্রান্সের বাস্তিল দুর্গেরও পতন হয়েছে, যে বাস্তিল দুর্গ ছিল স্বৈরাচারী সরকারের নির্যাতন ও জুলুমের প্রতীক। শেখ হাসিনাও টিকতে পারবেন না।
জনগণ নেমেছে রাজপথে, তাদের আর দাবায়ে রাখা যাবে না। তারা সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ‘নুরুল দিনের ডাকে’ সাড়া দিতে প্রস্তুত।
“নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন শকুনি নেমে আসে এই সোনার বাংলায়,
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন এ দেশ ছেয়ে যায় দালালের আলখাল্লায়,
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন আমার স্বপ্ন লুট হয়ে যায়,
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন আমার কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়,
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন আমারই দেশে আমারই দেহ থেকে

রক্ত ঝরে যায় ইতিহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠায়,

অভাগা মানুষ যেন আবার জেগে উঠে এই আশায় যে-
আবার নূরলদীন একদিন আসিবে বাংলায়
আবার নূরলদীন একদিন কাল পূণির্মায় দিবে ডাক –
জাগো বাহে, কোনঠে সবাই।”