নিউজ ডেস্ক
মহানগর বিএনপি’র কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। যুবদলের দুটি কমিটিও আংশিক। স্বেচ্ছাসেবক দলে আহ্বায়ক কমিটি। ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এতে কিছুটা পিছুটান থাকলেও রাজপথে ঐক্যবদ্ধ সিলেট বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। দিন দিন কর্মসূচি পালনে বাড়ছে কর্মীদের সংখ্যা। রাজপথ দখলে রাখাই এখন সিলেট বিএনপি’র টার্গেট। এজন্য প্রশাসনের বাধা ও চোখ রাঙানি আছে। এরপরও নেতারা মাঠ দখলে মরিয়া। বাধা উপেক্ষা করে চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মসূচি।
সিলেট বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন, এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। ডু অর ডাই। এ কারণে রাজপথের আন্দোলনে সবাই নেমে এসেছেন। সিলেট বিএনপি’র কমিটিতে আধিক্য রয়েছে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের। আরিফুল হক চৌধুরীও আছেন একাংশের হাল ধরে। সিলেটে বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল অংশ না নেয়ায় প্রতিবাদস্বরূপ রানিং মেয়র থাকার পরও নির্বাচন করেননি মেয়র আরিফ। নির্বাচন বয়কট করেছেন। এরপর থেকে মনোযোগ দিয়েছেন দলীয় কর্মকাণ্ডে। এখন তিনি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলের কর্মসূচি পালনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। ঢাকার রাজপথে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ছিলেন সক্রিয়। অনুসারীদের নিয়ে যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও মাতুয়াইল এলাকায় অবস্থান নেন। বিগত ১০ বছরে সিটি করপোরেশনে বেশি ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন মেয়র আরিফ। নির্বাচন বয়কট করার পর দলে মনোনিবেশ করার কারণে তার সঙ্গে সিলেট বিএনপি’র ঝিমিয়েপড়া অংশের নেতারা সক্রিয় হয়েছেন।
দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন- সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি’র কমিটি সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচনে যারা পরাজিত হয়েছেন তারা কিছুদিন দূরে থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জেলার সাবেক সভাপতি আবুল কাহের শামীম, মহানগরের সাবেক সভাপতি প্রার্থী মিফতাহ সিদ্দিকীসহ সিনিয়র অনেক নেতা এখন মাঠে সক্রিয়। সিলেট নগর বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ূম জালালী পংকিসহ সিনিয়র নেতারা প্রতি কর্মসূচিতেই নেতাকর্মীদের নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। এ ছাড়া যুবদলের সম্মেলনে পরাজিত নেতারাও রাজপথে কর্মসূচি পালনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। প্রায় ১০ মাসের অধিক সময় ধরে সিলেটে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। এরপরও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে সিলেটে যুবদল আন্দোলন চালাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের নেতৃৃত্বে সব বলয়ের নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে রয়েছেন। কয়েক মাস কারান্তরীণ ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল। তিনি কারামুক্ত হয়ে ফের চাঙ্গা করেছেন দলকে। ছাত্রদলের জেলা ও মহানগর কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ থাকলেও রাজপথে এখন সব বলয়ের নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালন করছেন।
যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতারা জানিয়েছেন- গত ৯ই জুলাই সিলেটে বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশের মধ্যদিয়ে সিলেটে তরুণরা আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। যারা এতদিন রাজপথে আসেননি তারাও ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এমনকি নিজেদের উদ্যোগে অনেকেই ঢাকায় গিয়েও কর্মসূচিতে যোগ দেন। তারুণ্যের সমাবেশের মধ্য সিলেটে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আগের চেয়ে অনেক বেশি চাঙ্গা বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন-জেলা ও মহানগর বিএনপি’র নেতারা নিজেদের নেতার চেয়ে কর্মী ভাবতেই বেশি পছন্দ করেন। দেশ ও দলের প্রয়োজনে আমরা নিজেদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ চাই না। এ কারণে সবাই রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। কিছুটা ভুল বুঝাবুঝি ছিল না যে, তা নয়- তবে আমরা সেই ভুল বুঝাবুঝির অবসান করতে পেরেছি। ক্রান্তিলগ্নে যাতে সবাই এক হয়ে থাকতে পারি সেই চেষ্টা সফল হয়েছে। এ কারণে যারা দূরে ছিলেন তারাও রাজপথের আন্দোলনের সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন-অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে দ্বন্দ্ব নয়, ঐক্যবদ্ধভাবেই মাঠে থাকতে হয়। এ বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবেই মাঠে সক্রিয় হয়েছি। আগামীতেও একই ধারা বজায় থাকবে বলে জানান তিনি। মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন- আন্দোলনে ঐক্যের বিকল্প নেই। সেপ্টেম্বরে আরও কঠোর কর্মসূচি আসছে। সেই কর্মসূচি পালনে আমরা প্রস্তুত। এখন আর আমাদের কোনো নেতাকর্মী ঘরে নেই। সবাই ভেদাভেদ ভুলে যে যার অবস্থান থেকে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে জানান তিনি।

