নিউজ ডেস্ক
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চেয়েছেন সফররত দুই মার্কিন কংগ্রেসম্যান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের কাছে খোলাখুলিভাবেই তারা জানতে চাইলেন নির্বাচনকালীন সরকারসহ বিবদমান অন্য ইস্যুগুলো নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতার কোনো পথ খোলা আছে কিনা? প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে আসা মার্কিন কংগ্রেসম্যান এড কেইস ও রিচার্ড ম্যাকরমিক গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা’য় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকটি মধ্যাহ্নভোজের মধ্যদিয়ে শেষ হয়।
যেখানে মন্ত্রী মোমেন একাধিক সংসদ সদস্য এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অংশ নেন। মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের সঙ্গে ভোজ-বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ড. মোমেন আরও বলেন, তারা জানতে চেয়েছেন বিএনপি’র সঙ্গে আমাদের সমঝোতার কোনো পথ আছে কিনা? আমরা বলেছি, তাদের তো একদফা দাবি, তাহলো সরকারের পদত্যাগ। আমরা বলেছি, ওই দাবি থেকে না সরলে সমঝোতার কোনো স্কোপ নেই।
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের পতন হয় কিনা? সেই প্রশ্ন উত্থাপন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, নির্বাচনের সময় তোমাদের দেশে কি সরকারের পতন হয়? নিশ্চয়ই না। আমি তাদের কাছে প্রশ্ন রেখেছি- এমন দাবি থাকলে তোমরা কি আলোচনায় বসবে? ওগুলোর প্রশ্নই উঠা উচিত নয়। সমঝোতা বা রাজনৈতিক সংকট সমাধান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ‘ফর্মুলা’ দেয়নি দাবি করে মন্ত্রী বলেন, তারা কোনো ফর্মুলা দিচ্ছে না বরং তারা আমাদের কাছে জানতে চাইছে সমঝোতার কোনো পথ আছে কিনা? বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন হবে এবং তাতে সবাই অংশগ্রহণ করুক সরকার এমনটা চায় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেই নির্বাচনে কে জিতবে, না জিতবে সেটি জনগণের ওপর নির্ভর করবে।
সংলাপ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমাদের এখানে ঐকমত্য হওয়ার মতো কারও কাছে কোনো দাবি-দাওয়া নেই। আমরা চাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আমাদের বিরোধী দল নির্বাচনের কোনো খবরই রাখে না।
তারা চায় সরকার পতন। এটা সংলাপের জন্য কোনো বিষয়বস্তু হতে পারে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব দলের ও মতের আন্তরিকতা দরকার এবং এ বিষয়ে তারা একমত বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, সব দল যদি নির্বাচনে যোগদান করে এবং তারা যদি আন্তরিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে তারাও অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন করবে, তবেই তো নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা ব্যতিরেকে সরকার বা নির্বাচন কমিশন চাইলেও নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হবে না- মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন সহিংসতামুক্ত করতে হলে সবার আন্তরিকতা দরকার। আমরা বলেছি- আমাদের দেশে অংশগ্রহণ তোমাদের দেশের থেকে কয়েকগুণ বেশি। তোমাদের ওখানে লোক ভোট দেয় না, কিন্তু আমাদের এখানে অধিকাংশ লোক ভোট দেয়। নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ- মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরও অধিকতর যোগাযোগ। তাতে উভয় দেশের সঙ্গে জানাশোনা হয় এবং মিথ্যা প্রচারণা সেগুলো কমে।
এক প্রশ্নের জবাবে সহিংসতা ছাড়া নির্বাচনের বিষয়ে ‘গ্যারান্টি’ দেয়া যায় না- মন্তব্য করে মন্ত্রী মোমেন বলেন, তাদের (দুই কংগ্রেসম্যান) কাছে বিভিন্ন লোকজন বলেছে, বাংলাদেশ একটি ভয়ঙ্কর জায়গা। এখানে অশান্তি আর অশান্তি। এই ধরনের একটি ধারণায় ভয় তাদের। মন্ত্রী বলেন, এসবের কোনোটিই সত্য নয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে, এ বিষয়ে কংগ্রেসম্যানরা আশ্বস্ত হয়েছেন কিনা- এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেটি তাদের জিজ্ঞেস করুন। তারাই ভালো বলতে পারবেন। দুই কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কংগ্রেসম্যানরা রোহিঙ্গাদের কাজ দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন। আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতার কথা বলেছি। আমরা বলেছি, আমাদের দেশ ঘনবসতি। আমাদেরই প্রতিবছর ২০ লাখ যুবক কাজের বাজারে যোগ হয়। সে ক্ষেত্রে এটা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত মাত্র ৬২ জন রোহিঙ্গাকে নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমি তাদের বলেছি, পারলে তোমরা আরও কিছু রোহিঙ্গাকে তোমাদের দেশে নেয়ার ব্যবস্থা করো। তবে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর তেমন আগ্রহী নয় বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।
যুক্তরাষ্ট্র মনে করে চীনের ‘খপ্পরে’ পড়েছে বাংলাদেশ: ওদিকে বাংলাদেশ চীনের ‘খপ্পরে’ পড়েছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে সরাসরি সরকারকে জিজ্ঞাসাও করেছেন সফররত দুই মার্কিন কংগ্রেসম্যান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে কংগ্রেসম্যান এড কেইস এবং রিচার্ড ম্যাকরম্যাক চীনের প্রতি বাংলাদেশের ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। বাংলাদেশ চীনের খপ্পরে পড়েছে কিনা? মার্কিন কংগ্রেসম্যানরা তা জানতে চেয়েছেন উল্লেখ করে বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন বিষয়ে কংগ্রেসম্যানরা বলেছেন, আমরা নাকি চীনের ভেতরে চলে যাচ্ছি!
আমরা বলেছি- না। আমরা চীনের ভেতরে যাচ্ছি না। আমাদের ঋণের এক শতাংশের মতো চীন থেকে নেয়া। এটি কোনো বড় বিষয় নয়। উল্লেখ্য, চার দিনের সফরে শনিবার বাংলাদেশে আসেন দুই মার্কিন কংগ্রেসম্যান। বাংলাদেশের নির্বাচনকে ঘিরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকার টানাপড়েনের মধ্যেই ঢাকায় এলেন তারা। হাওয়াই থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেট পার্টির কংগ্রেস সদস্য এড কেইস এবং জর্জিয়া থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেস সদস্য রিচার্ড ম্যাকরমিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদাভাবে মতবিনিময় করেন। দিনের শুরুতে তারা ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন। আজ তাদের কক্সবাজারস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তিন দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক: গতকাল বিকালে রাজধানীর গুলশানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস্-এর বাসায় দুই কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির নেতারা। গতকাল বিকালে রাজধানীর গুলশানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস্-এর বাসায় এ বৈঠক হয়।
বৈঠক শেষে বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, আজকে দেশে একদলীয় শাসন চলছে। চলছে অত্যাচার ও নির্যাতন। এজন্য নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয়, শান্তিপূর্ণ হয়, অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচন হয়- সেই নির্বাচনটা যাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয় সেটা আমরা বলেছি। সেটা আমরা চেয়েছি এবং আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা আশাবাদী, এদেশে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে একটা সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
আপনাদের সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে উনারা কথা দিয়েছেন-এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী, এদেশে একটা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। আর সেই নির্বাচনটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হবে।
প্রতিনিধিদলগুলো কি নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন- এই প্রশ্নের জবাবে এ্যানী বলেন, জানতে চেয়েছেন বলেই আমি একথাগুলো বলেছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখানে মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছি। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আমরা আলোচনা করেছি। এটা আমি আমার দলকে অবহিত করবো।
নির্বাচন নিয়ে কি আলোচনা হয়েছে- জানতে চাইলে বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক বলেন, আমরা সব সময় ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন চেয়েছি। একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়েছি। সেই আলোচনাগুলোই করেছি। কারণ গত কয়েকটি নির্বাচন এদেশে সুষ্ঠু হয়নি, শান্তিপূর্ণ হয়নি এবং একদলীয় শাসনের ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছে ও একটা সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। যে নির্বাচন এদেশের মানুষ কখনো আশা করেনি।
তিনি বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমি সেই আমন্ত্রণে এসেছি। দু’জন কংগ্রেসমান এসেছেন। উনাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আর বর্তমান সরকারের এমপি সাহেবরা ছিলেন।
শরীয়তপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ নাহিম রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা হয়েছে, ভালো হয়েছে। কিন্তু আমার কিছু বলার নেই।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ওয়াশিকা আয়েশা খান ও তামান্না নুসরাত বুবলী উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পার্টি থেকে অংশ নেন সংরক্ষিত সংসদ সদস্য শেরিফা কাদের, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: যুক্তরাষ্ট্রের দুই কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনীতি, রোহিঙ্গা প্রতিক্রিয়া, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-মার্কিন অংশীদারিত্ব নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ককে উষ্ণ, গতিশীল, বহুমুখী এবং দূরদর্শী হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জোর দেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বিকাশ লাভ করায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কেবলমাত্র গভীর ও প্রশস্ত হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ প্রসারিত এবং বৈচিত্র্যময় হবে। কারণ বাংলাদেশ আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ইস্পাত সহ অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাবনার প্রস্তাব করে।
মার্কিন প্রতিনিধিদল অন্যান্যের মধ্যে ফার্মাসিউটিক্যালে অংশীদারিত্বের বিষয়ে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিনিধিদলটি ১০ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের উদারভাবে আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করে। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা ক্রমান্বয়ে হ্রাসের প্রেক্ষাপটে এগিয়ে যাওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার জন্য মার্কিন সরকারের প্রশংসা এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বৈঠকে সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, কাজী নাবিল আহমেদ, মোহাম্মদ আলী আরাফাত উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মহাপরিচালক (উত্তর আমেরিকা) খন্দকার মাসুদুল আলমসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেস সদস্যদের পত্নী ড. ডেব্রা মিলার এবং মিসেস অড্রে কেইস, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস্ এবং অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তারা কংগ্রেস প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন।

