• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সারাদেশ

ভুয়া ডিবি পরিচয়ে অপহরণ, সেচ্ছাসেবকলীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৩

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৩ ৩:২৬
আপডেট: শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৩ ৩:২৬

ভুয়া ডিবি পরিচয়ে অপহরণ, সেচ্ছাসেবকলীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৩

নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর জিম্মি করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছে এক সেট পুরাতন ব্যবহৃত পুলিশ হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বিকেল এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার গোলাম সবুর পিপিএম।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ও সদর উপজেলার সওদাগড়পাড়ার মৃত আলিমুজ্জামান মিলনের ছেলে নাদিফ জামান ঊষা (২৪), অপর আরেক নেতা বাড়াইপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে তানভির আহম্মেদ (২৩) ও ডালপট্টি এলাকার নিয়ামত আহম্মেদের ছেলে মো. ফজলে রাব্বী (২৩)।

পুলিশ সুপার গোলাম সবুর জানান, সদরের চাপড়া সরঞ্জামি ইউনিয়নের যাদুরহাট এলাকার সজল ইসলাম দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলামী ব্যাংক নীলফামারী শাখায় ৫০ হাজার টাকা জমা দেয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। অটোরিকশাযোগে নীলফামারী শহরের চৌরঙ্গীর মোড়ে নেমে ইসলামী ব্যাংকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অপর অটো রিকশার জন্য অপেক্ষা করার সময়ে প্রথমে দুইজন জন ব্যক্তি এসে তার নাম ও ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে।

পরে তারা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সামনে ডিবি’র বড় স্যারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। তখন সে প্রতিবাদ করলে উক্ত স্থানে থাকা রিকশাওয়ালা ও পথচারী লোকজন জড়ো হতে থাকলে ওই দুই ব্যক্তি ডিবি পুলিশের পরিচয় দেয়। এ সময় তাকে জোরপূর্বক রিকশায় উঠিয়ে নিয়ে যায়। প্রথমে এবাদত প্লাজার পার্শ্বে থাকা স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সংলগ্ন গলি দিয়ে পূর্ব দিকের পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে আরও দুইজন ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে। সজলের প্যান্টের বাম পাকেটে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা জোর করে ছিনিয়ে নেয় এবং বিকাশ একাউন্ট নম্বর থাকা ৬৫০ টাকা ক্যাশ আউট করে নেয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, একজন আসামি সজলের কাছে পাঁচ লাখ টাকা পায় মর্মে ১০০ টাকার তিনটি নন জুডিসিয়াল ফাঁকা ষ্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করে নিয়ে তা ভিডিও ধারণ করে। সুযোগ বুঝে কৌশলে প্রাণের ভয়ে সজল নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে প্রবেশ করে চিৎকার করলে শাপলাপাড়ার লোকজন জড়ো হলে আসামিরা পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাদের চিনতে পারলে তাদের নাম-পরিচয় বলে দেয়।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামি নাদিফ জামান ঊষার (২৪) ব্যবহৃত মোবাইল ফোন হতে জোরপূর্বক ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ১৯টি ভিডিওসহ আরও অন্যান্য ভিডিও পাওয়া যায়। তার কোমড়ে গোজানো অবস্থায় এক সেট পুরাতন ব্যবহৃত পুলিশ হ্যান্ডকাপ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। এদিন বিকেলে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি শেষে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান গোলাম সবুর।