• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সারাদেশ

না’গঞ্জে রি-রোলিং মিলে গ্যাসের বিস্ফোরণে ৫ শ্রমিক দগ্ধ

প্রকাশ: শনিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৩ ১০:৩৮
আপডেট: শনিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৩ ১০:৩৮

না’গঞ্জে রি-রোলিং মিলে গ্যাসের বিস্ফোরণে ৫ শ্রমিক দগ্ধ

এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি রি-রোলিং মিলে গ্যাসের বিস্ফোরণে পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধদের রাজধানির শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৪ অক্টাবর) ভোর রাতে গোদনাইল সৈয়দপাড়া এলাকায় মেসার্স শারমিন স্টিল লিমিটেড নামে রড তৈরির কারখানায় গ্যাসের কন্ট্রোল রুমে এই বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের আদমজী ইপিজেড স্টেশনের দুইটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রন করে।
জানা গেছে, হাবিবুর রহমানের মালিকানাধিন কারখানাটিতে ৮০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। অধিকাংশ শ্রমিক দিনে ও রাতে কারখানেই থাকেন।
শ্রমিকরা জানান, শুক্রবার রাতে কাজ শেষ করে শ্রমিকরা সবাই কারখানার ভেতরেই ঘুমিয়ে ছিলেন। শনিবার ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে কারখানার ভেতরে গ্যাসের কন্ট্রোল রুমে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এসময় ওই রুমের দু’পাশের দেয়াল ধসে পড়ে আগুন ধরে যায়। পাশের একটি রুমও বিদ্ধস্ত হয়। আগুনে গ্যাসের কন্ট্রোল রুমের পাশে ঘুমিয়ে থাকা পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে অন্যান্য শ্রমিকরা দগ্ধদের উদ্ধার করে রাজধানির শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটউটে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল সার্জন ডা. তরিকুল ইসলাম জানান, দগ্ধদের অবিস্থা সংকটাপন্ন। তাদের মধ্যে মোজাম্মেল ১০০ শতাংশ, সাইফুল ৬০ শতাংশ, শরিফুল ৫৭ শতাংশ, জাকারিয়ার ৩৫ শতাংশ ও ইকবালের শরীরের ৩৩ শতাংশ প্ুঁড়ে গেছে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
মেসার্স শারমিন স্টিল লিমিটেড এর ইনচার্জ সৈয়দ হারুন অর রশিদ আজাদ এ প্রতিবেদককে বলেন, অধিকাংশ ছুটির দিনে গ্যাসের প্রেসার বা চাপ বেড়ে যায়। এটা অটোমেটিক নিয়ন্ত্রন হয়। গতকাল শুক্রবারও চাপ বেড়ে ওভার ফ্লো হয়ে এই দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি।
সকালে ফায়ার সার্ভিস, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও তিতাসের কর্মকর্তারা কারখানা পরিদর্শন করেন।
ঘটনাস্থল থেকে ফিরে তিতাসের নারায়ণগঞ্জ জোনের কর্মকর্তা প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা কারখানা পরিদর্শন করি। গ্যাসের কন্ট্রোল রুমে পাইপ লাইনে কোন লিকেজ পাইনি। আমরা ধারণা করছি, গ্যাসের চাপ বেড়ে গিয়ে এই দূর্ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। তবে আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তারা আসবেন। তারা দেখে আরও ভালো বলতে পারবেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠয়েছি। বিস্ফোরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।কারখানা কতৃপক্ষ বা কারো কোন গাফিলতি আছে কিনা সে বিষয়েও আমরা তদন্ত করছি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফখর উদ্দিন বলেন, আগুনের খবর পেয়ে ভোর রাতেই আমাদের দুইটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রন করে। এখানে এসে জানতে পেরেছি পাঁচজন দগ্ধ হয়েছে এবং তাদের ঢাকায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তিতাসের বিতরণ সংযোগে সরবরাহকৃত গ্যাসের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তিতাসের সাথেও আমরা কথা বলবো। এরপর নিশ্চিত করে বলতে পারবো কি কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে