নিউজ ডেস্ক
অনুমতি না পেলেও আজ শনিবার পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ হবে বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দুপুর দুইটায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেত হওয়ার ঘোষণা দিলেও, পুলিশের বাধায় সেখানে জমায়েত হতে না পারলে, আশেপাশে কোথাও সমাবেশ করার ‘সর্বত্মাক’ চেষ্টা করবে। দলটির সূত্র সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গুলশানের আমেরিকান ক্লাবে ঢাকায় নিযুক্ত একজন মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দূতাবাস সূত্র বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করেছে সমকালকে। জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, সকাল ১০টা থেকে দেড় ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে মার্কিন দূতাবাসের প্রথম সচিব ম্যাথু বে’র সঙ্গে। রাজনৈতিক ডামাডোলের আগে এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ডা. তাহের এবং ম্যাথু বে’র বক্তব্য জানাতে পারেনি সমকাল। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে বাধা দিলে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈঠকে সমাবেশ নিয়ে কথা হয়েছে কী না তা জানা যায়নি।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমান শুক্রবার বিবৃতিতে বলেছেন, কোনো মানুষকে ভয় না করে শুধুমাত্র আল্লাহকে ভয় করে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে মহাসমাবেশ সর্বাত্মক সফল করতে জামায়াতে সকল জনশক্তি এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কেয়ারটেকার সরকারের নির্বাচনে দিতে বাধ্য করতে হবে। মহাসমাবেশ বানচাল করতে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমাবেশের জন্য পছন্দের জায়গা পেলেও আদালতের রায়ে নিবন্ধন হারানো জামায়াত অনুমতি পায়নি। দলটির সূত্রের ভাষ্য, অনুমতি ছাড়া সমাবেশে সংঘাতের ঝুঁকি থাকলেও নির্বাচনের প্রাক্কালে কর্মসূচি ডেকে পিছিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাতে রাজনীতির মাঠে গুরুত্ব কমবে। দলটির এক নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, নটরডেম কলেজ থেকে পল্টন- এই এলাকায় জমায়েত হওয়ার চেষ্টা থাকবে। এতে যদি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়, তাহলেও কিছু করার নেই। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগের সমাবেশ থাকায়, সেদিকে যাওয়া যাবে না।
অনুমতি না পাওয়ার পরও সমাবেশের বিষয়ে অনড় থাকার বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেছেন, সভা-সমাবেশ সাংবিধানিক অধিকার। আইনানুযায়ী কারো অনুমতি প্রয়োজন নেই। মহাসমাবেশে সহযোগিতা চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) চিঠি দিয়েছে জামায়াত।
গত বছরের ডিসেম্বরে সমঝোতার মাধ্যমে ২৩ বছরের জোট ভেঙে ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে নেমেছিল বিএনপি ও জামায়াত। দলীয় আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের এবং কর্মসূচিতে পুলিশী বাধার প্রতিবাদ না করায় বিএনপির প্রতি ক্ষুব্ধ হয় জামায়াত। গত ফেব্রুয়ারিতে সরে যায় যুগপৎ আন্দোলন থেকে।
যুদ্ধাপরাধের বিচারে এক যুগ কোণঠাসা অবস্থায় জামায়াত গত ১০ জুন প্রায় এক দশক পর পুলিশের অনুমতি নিয়ে সমাবেশ করেছিল ঢাকায়। এরপর সরকারের সঙ্গে জামায়াতের সমঝোতার গুঞ্জন তৈরি হয়। বিএনপি ও জামায়াত নেতারা সেই সময়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে বক্তব্যও দেয় এ নিয়ে। তবে পরের মাসগুলোতে বারবার আবেদন করেও কর্মসূচির অনুমতি পায়নি দলটি। জামায়াত সূত্রের দাবি, ভারতের আপত্তির কারণে সরকার ও পুলিশ এমন কঠোর হয়েছে।
গত আগস্ট থেকে ফের বিএনপি ও জামায়াতের আলাপ-আলোচনা শুরু হয়। এক সপ্তাহ আগেও জামায়াত সূত্রগুলো জানিয়েছিল, বিএনপির সঙ্গে মিল রেখে ২৮ অক্টোবর কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। গত ২৩ অক্টোবর দলটি মহাসমাবেশের ডাক দেয়। জামায়াতের সেই সূত্রগুলো সমকালকে জানিয়েছে, বিএনপিকে জানিয়ে একই দিনে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ দিনে আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতাকর্মী নিহত হন। ওই ঘটনার স্মরণে দলটি প্রতি বছর ২৮ অক্টোবর নানা কর্মসূচি দিলেও, কখনো মহাসমাবেশ ডাকেনি। এবার মহাসমাবেশ ডেকেছে তত্ত্বাবাধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ তিন দাবিতে। জামায়াতও বিএনপির সুরে এবার এক দফার আন্দোলন বলছে।
বিএনপি ও অন্যান্য সমমনা দল লিখিত ও মৌখিক অনুমতি নিয়ে আজ সমাবেশ করবে। অনুমতি না থাকায় জামায়াতের কর্মসূচিতে সংঘর্ষ হলে, তা বিএনপিসহ ও অন্য দলের কর্মসূচিতে ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে গত কয়েক মাসে কয়েকবারই জামায়াত কর্মসূচি ডেকেও রাস্তায় নামেনি। বরং পুলিশ ছিল কড়া পাহারায়। দলটির নেতারা বলছেন, এবার তেমন হবে না। মহাসমাবেশ হোক না হোক, অন্তত রাস্তায় নামবেন নেতাকর্মীরা।

