নিউজ ডেস্ক
সুপ্রিম কোর্টে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিচারের নামে অবিচার বন্ধের দাবিতে আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সামনে কয়েক শ’ বিএনপিপন্থী ও সরকার বিরোধী আইনজীবীরা অবস্থান নিয়ে আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা আইনজীবীদের মাঝে আদালত বর্জনের লিফলেট বিতরণ করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সামনে কাপড় বিছিয়ে সেখানে বসে এবং প্রবেশ পথে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আইনজীবীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত আদালত বর্জন করার পর বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতারা বলেছেন, তাদের আদালত বর্জন কর্মসূচিতে আইনজীবীরা ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী আজীবীরা ছাড়া কেউ আদালতে যাননি। অনেক আদালত বসার পরও আবার উঠে গেছে। তারা জানান, আগামীকাল বুধবার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
সকাল থেকে আদালতে না গিয়ে আদালত বর্জন কর্মসূচিতে অংশ নেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী, বিএনপির আইন সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সুপ্রিম কোর্ট বারের এডহক কমিটির আহ্বায়ক মহসিন রশিদ, ইউনাইটেড লইয়ার্ ফ্রন্টেরে (ইউএলএফ) কো-কনভেনর সুব্রত চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্ আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সভাপতি আবদুল জব্বার ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল, ইউএলএফের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের কনভেনর শাহ আহমেদ বাদল, ইউনাইটেড লইয়ার্ ফ্রন্টেরে (ইউএলএফ) সমন্বয় সৈয়দ মামুন মাহবুব, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলী, আইনজীবী আবেদ রাজা, কেএম জাবির, জগলুল হায়দার আফ্রিক, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, মো. আক্তারুজ্জামান, সগীর হোসেন লিওন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক ট্রেজারার মো: কামাল হোসেন, আইনজীবী রেজাউল করীম রেজা, শহীদুল ইসলাম সপু, মাহবুবুর রহমান খান, একেএম রেজাউল করীম খন্দকার, মিজানুর রহমান, মো: পারভেজ হোসেন, ফাতেমা আক্তার, মো: মাকসুদ উল্লাহ, মু. কাইয়ুম,নূরে এরশাদ সিদ্দিকী, জামিউল হক ফয়সালসহ শতাধিক আইনজীবী।
এ বিষয়ে বিএনপির আইন সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমরা সকাল ৯টা থেকে আদালত বর্জন কর্মসূচি শুরু করেছি। সারা দেশে বিচারের নামে যে অবিচার-প্রহসন হচ্ছে তার প্রতিবাদে। দেশের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিচারের নামে যে অবিচার হচ্ছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। তারেক রহমানকেও সাজা দেয়া হয়েছে। সোমবার নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও সাজা দেয়া হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিরোধী দলের নেতাদের প্রহসনের বিচারের নামে সাজা দেয়া হচ্ছে। এসব আন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করছি।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বাংলাদেশে ন্যায়বিচার নেই। সরকারের কথায় তা স্পষ্ট হয়ে গেছে নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে। এজন্য বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তার কারণে প্রায় তিন মাসে বিএনপিসহ বিরোধী দলের ১৭ শ’ নেতাকর্মীকে কারাদণ্ড দিয়েছে। তিনি বলেন, আজকে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করলে বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হত না, তারেক রহমানের সাজা হত না।
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আইনজীবীরা আদালত বর্জন করতে বাধ্য হয়েছে। এই বর্জন কোনো রোজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। দেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে আমরা আইনজীবীরা মনে করি- দেশের আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য ভোটাধিকারের জন্য এবং একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে আইনজীবীরা স্বোচ্চার। সেটা আজকে প্রতিবাদ হিসেবে আজকে আমরা আদালত বর্জন কর্সূচি পালন করছি।
গাজী কামরুল ইসলাম সজল বলেন, আমরা আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্ন্ত আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করেছি। আদালতে বেশিরভাগ আইনজীবীরা আসেননি। আনে আদালত বসার পরেও উঠে গেছে। তিনি বলেন, আগামী কাল বুধবার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্ন্ত আমরা আদালত বর্জন কর্সূচি পালন করব।
সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী আইনজীবীরা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল আইনজীবী সংগঠন নিয়ে ইউনাইটেড লইয়ার্ ফ্রন্টেরে (ইউএলএফ) গঠন হয়েছে। ইউএলএফের উদ্দেশ্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও একটি সাংবিধানিক বিচার ব্যবস্থা। অনেকে বলে এটা আওয়ামী লীগের বিচার বিভাগ। সেটা আমরা সাংবিধানিক বিচার বিভাগে আনতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা ৪টা পর্যন্ত কর্সূচি পালন করেছি। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী আজীবীরা ছাড়া কেউ আদালতে যায়নি।
ইউএলএফ সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের কো-কনভেনর মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা গণতন্ত্র পুনঃউদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা এবং বিচার বিভাগের স্বধীনতার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছি। সারা দেশের মানুষ আজ ভোট বর্জন করছে। ভোট বর্জনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। কারণ এই নির্বাচন একটি তামাশার নির্বাচন।
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগসহ সকল আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। ওইদিন সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনে ডামি নির্বাচন বর্জন, কর্তৃত্ত্ববাদী এ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে জনগণের অসহযোগ আন্দোলনের সাথে সংহতি জ্ঞাপন এবং আইনজীবীদের কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ওই সংবাদ সম্মেলনের বলা হয়, আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৪ সরকার আর একটি নীলনকশার পাতানো ডামি নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে।

