• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

রাজনীতি

৭ জানুয়ারির নির্বাচন আবার পঁচাত্তর সালের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে : ফারুক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ ৩:৩৪
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ ৩:৩৪

৭ জানুয়ারির নির্বাচন আবার পঁচাত্তর সালের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে : ফারুক

নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শক্তির বিজয় হবেই মন্তব‌্য ক‌রে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবেদিন ফারুক ব‌লে‌ছেন—

সেই দিন বাংলাদেশের গরীব মানুষ পেট ভরে খেতে পারবে। গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলতে পারবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কথা বলতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের উদ্যেগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফারুক বলেন, আজ এমন একটি দিন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের গণতন্ত্রণকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল। সব সংবাদপত্র বন্ধ করে সব সরকারি-বেসরকারি মানুষকে এক দলে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জাতীয় সংসদে ১১ মিনিটে সংবিধান সংশোধন করে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। আমরা এই কালো দিবসে আজকে দাঁড়িয়ে আবারও মনে করিয়ে দিতে চাই, গত ৭ জানুয়ারি যে তামাশার নির্বাচন আপনারা (সরকার) মঞ্চস্থ করেছেন, দেশের জনগণ সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, বরং প্রত্যাখ্যান করেছে।

৭ জানুয়ারির নির্বাচন আবার পঁচাত্তর সালের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাংলার আকাশে আবারও কালো ছায়াকে দেখতে পাচ্ছি। বাংলার আকাশে আবারও এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার আভাস মিলছে বলে আমরা মনে করি। তাই আজকে রাজপথে দাঁড়িয়ে আবারও সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই৷ যে বাকশালকে আপনারা নিজ হাতে তৈরি করে আবার নিজ হাতে জবাই করে দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গিয়েছেন, আবারও আপনারা পুরানো ফন্দি এঁটে আবারও বাকশাল কায়েম করে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের জগৎ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মানুষ, যেইসব দলগুলো গণতন্ত্র বিশ্বাস করে, যে সব মানুষ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সমর্থন করে, তাদের পথ বন্ধ করে দেয়ার ষড়যন্ত্রের আভাস আমরা পাচ্ছি।

বিএনপির নেতাকর্মীদের সরকার জেলে পাঠিয়েছে অভিযোগ করে এই নেতা আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ, তাকে আপনারা (সরকার) মুক্তি দিচ্ছেন না। আপনারা মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, নির্বাহী কমিটির সদস্যদের রাতের অন্ধকারে গ্রেফতার করেছেন।

তিনি আরো বলেন, যেই নির্বাচন কমিশন ঘুমিয়ে থাকে, ঘুম থেকে উঠে বলে ২৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। এক ঘণ্টা পরে কীভাবে ৪২ শতাংশ মানুষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সেটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আমি জানতে চাই। এর উত্তর আপনাকে (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) এই বাংলার মাটিতে একদিন না একদিন দিতেই হবে।বিএনপিকে ধ্বংস করার হীন প্রচেষ্টা থেকে আপনাকে সরে আসতে হবে।

তিনি আরো বলেন, গতকাল টিআইবি বলেছে, দেশের ৬৭ ভাগ সংসদ সদস্য কোটিপতির উপরে। এই টাকা কই থেকে আসে? যেই ডিম তিন টাকা ছিল, সেই ডিম এখন ১২ টাকা। যেই মোটা চাল ৪৪ টাকা ছিল, সেই চাল এখন ৬৫ টাকা। এসব সিন্ডিকেট করে তারা টাকার পাহাড় বানিয়েছেন।

বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক এম. জাহাঙ্গীর আলম সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ইঞ্জি. মোফাজ্জল হোসেন হৃদয় এর সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন নসু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কৃষকদলের সহ-সভাপতি আ ন ম খলিলুর রহমান ভিপি ইব্রাহিম, তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকী, বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মুসা ফরাজি, কৃষক দল নেতা ওবায়দুল ইসলাম, মনির হোসেন বেপারী, ছাত্রদল নেতা শামীম হাসান, বেলাল হোসেন খান প্রমুখ।