স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
এক সপ্তাহ আগে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর মাছ, মাংস, খেজুর এবং বিভিন্ন সবজিসহ মোট ২৯টি নিত্যপণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও নতুন এ দাম বাস্তবায়ন হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। গরুর মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল ৬৬৪ টাকা। শুক্রবার (২২ মার্চ) সকালেও ১ কেজি গরুর মাংসের দাম ৭৫০ থেকে টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাশির মাংস নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০০৩ টাকা কেজি, শুক্রবার সকালে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১১০ টাকা।
ব্রয়লার মুরগীর দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭৫ টাকা কেজি, শুক্রবার সকালে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা কেজি। সোনালি মুরগী ২৬২ কেজি নির্ধারণ করা হয়েছিল শুক্রবার বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি, মাছসহ অন্যান্য পণ্যও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না নিত্যাপণ্যের বাজার।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সংস্থাটির হিসাবে প্রতি কেজি ব্রয়লারের উৎপাদন খরচ ধরা হয় ১৪৬ টাকা। আর খুচরা পর্যায়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয় কেজিপ্রতি ১৭৫ টাকা। এছাড়া খুচরায় প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৬৬৪ টাকা, ছাগলের মাংসের (খাসি) কেজি ১ হাজার ৩ ও সোনালি মুরগির মূল্য ২৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রতি কেজি চাষের পাঙাশের উৎপাদন খরচ ধরা হয় ১১৫ টাকা। এছাড়া খুচরা পর্যায়ে পাঙাশের যৌক্তিক মূল্য ১৮১ টাকা এবং কাতলা মাছের যৌক্তিক মূল্য সর্বোচ্চ ৩৫৪ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সে অনুযায়ী বাজারে মাছ ও মাংস নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ১০-২৫ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে রাজধানীর বাজারে প্রতিটি সবজির দামই এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতিতে চাহিদার তুলনায় কম সবজি কিনে ঘরে ফিরছেন। পকেটের সাথে সঙ্গতি রেখে তাদের কাটছাঁট বাজার করতে হচ্ছে। এরা কৃষক পর্যায়ের সবজির দাম শুনে অবাক হচ্ছেন। অনেক সময় কৃষক পর্যায়ের দাম তারা বিশ্বাসই করতে চান না। ক্ষেত থেকে কেনা ১০-১২ টাকার মিষ্টি কুমড়া ঢাকায় এসে কিভাবে ১০০ টাকা হয়ে যায় তা শুনে অবাক গোপীবাগের বাসিন্দা শহিদুল। তিনি বলেন, এটা কিভাবে সম্ভব। কত লাভ দরকার! বিক্রেতারা রাস্তায় খরচের কথা বলেন। কিন্তু রাস্তায় একটি কুমড়ার পেছনে কত টাকা খরচা হয়! দ্বিগুণ হোক, ব্যবসায়ীরা আরো দ্বিগুণে বিক্রি করুক। তাতেও তো একটি কুমড়ার দাম হওয়ার কথা ৫০ টাকা। ওয়ারীর কে এম দাস লেনের সবজি বিক্রেতা ছাইদুর রহমান জানান, একটি মিষ্টি কুমড়া তারা ৪ ভাগ করে বিক্রি করেন। প্রতি ভাগ ৩০ টাকা। সেই হিসাবে একটি কুমড়ার দাম পড়ে ১২০ টাকা। আর কেউ গোটা কিনতে চাইলে তার কাছে ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
গতকাল রাজধানীর বেশ কয়েকটি সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়, উচ্ছে ৫০ টাকা, করলা ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, সজনে ২০০-২৫০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, লাউ এক পিস ৫০-৭০ টাকা, শিম ৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০-৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা আর কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ টাকায়। মতিঝিল দিলকুশা এলাকার অস্থায়ী সব্জি বাজার এই এলাকার চাকরিজীবীদের কাছে প্রিয়। এখানে অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্যে বাজার করতে পারেন। বিশেষ করে বিকেলের দিকে কম মূল্যে সবজি পাওয়া যায় এই বাজারে। সজল নামের এক ক্রেতা গতকাল ওই বাজারে বসে বলেন, এখন আর স্বস্তি নেই। টমেটোর ভরা মৌসুম এখন। আগের বছরও এই সময়ে টমেটোর কেজি ছিল ৮-১০ টাকা। এবার ৪০ টাকার নিচে কোনো দিন টমেটো কিনতে পারেননি। তিনি বলেন, অথচ শুনেছি যেসব এলাকায় টমেটো উৎপাদন হয় সেখানে গরুতেও টমেটো খায় না! সব্জি বিক্রেতা কামাল বলেন, তাদের লাভ সীমিত। আর মোটা দাগের লাভের জন্য তারা অপেক্ষাও করতে পারেন না। আজকের সব্জি কালকে কেউ কিনতে চান না। তাজা সব্জিই কিনতে মানুষ পছন্দ করেন। যে কারণে যা লাভ পান তাতেই বিক্রি করে দিতে হয়।
এ বিষয়ে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর একটির সঙ্গে আরেকটির সমন্বয় নেই। অতীতেও বিভিন্ন সময় দাম নির্ধারণ করে পরবর্তী সময়ে আর বাস্তবায়ন হতে দেখা যায়নি। এবারো আমরা তা দেখছি না। প্রতিষ্ঠানগুলো বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। সবগুলো প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে কাজ করতে হবে। তা না হলে এসব মূল্য নির্ধারণ করে সুফল আসবে না।’

