জনতার আওয়াজ ডেস্ক
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছাত্র-জনতা হত্যার প্রতিবাদে ও বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী শুক্রবার (২ আগষ্ট) শোক মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকালে প্রায় দুই ঘণ্টা রাজধানীর গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট থেকে গোলাপশাহ মাজারমুখী সড়ক অবরোধ করে অবস্থানের পর নতুন এই কর্মসূচি দিয়ে সড়ক ছাড়লেন এই ৩১টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এই ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, আমরা আমাদের পূর্ব কর্মসূচি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদী গানের মিছিল নিয়ে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমাদের এই অহিংস কর্মসূচিতে পুলিশ নিরাপত্তার অজুহাতে বাধা দেয়। তাই আমরা জিরো পয়েন্টেই অবস্থান নিয়ে গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাই। আমরা কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে, এই হত্যার প্রতিবাদে ও বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী শুক্রবার বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শহীদ মিনারে শোক মিছিল করবো। আমরা নিহতদের স্মরণে সেদিন শহীদ মিনারে ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলী জানাবো।
বর্তমান সরকারের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, আপনারা এখনই পদত্যাগ না করলে ছাত্র-জনতা আপনাদের ক্ষমতা থেকে টেনে হিঁচড়ে নামাবে। তাই সময় থাকতে নিজ থেকে পদত্যাগ করুন।
এ সময় বর্তমান সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
বিকাল সোয়া ৫টায় সড়ক থেকে সরে গিয়ে তারা মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ে যান। এরপর জিরো পয়েন্ট থেকে গোলাপশাহ মাজার মুখী রাস্তায় যান চলাচল শুরু হয়। এর আগে, বিকাল সোয়া ৩টায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছাত্র-জনতা হত্যার প্রতিবাদে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিবাদী গানের মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়।
বিকাল সোয়া ৩টার দিকে রাজধানীর গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট (জিপিও মোড়) থেকে মিছিল নিয়ে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে যাওয়ার সময় জিরো পয়েন্ট মোড়েই তাদের বাধা দেয় পুলিশ।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে কিছুক্ষণ বাক-বিতন্ডা ও ধাক্কা ধক্কির পর জিরো পয়েন্টের গোলাপ শাহ মাজার রোডে বসে পড়ের মিছিলকারীরা। সেখানে তারা পুলিশের উদ্দেশে খুনি খুনি বলে স্লোগান দেন এবং বিভিন্ন প্রতিবাদী গান গাইতে থাকেন।

