এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হক বলেছেন, একটি শিল্প কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করে। দুর্বৃত্তরা যদি সেই কারখানাটি জ্বালিয়ে দেয় ধ্বংস করে দেয় তাহলে মালিক হয়তো অন্য কোন ব্যবসা কিংবা অন্য কোন শিল্প কারখানা করতে পারবে। কিন্তু এই হাজার হাজার শ্রমিকরা কোথায় যাবে। ওই কারখানাটি তো বছরের মধ্যেও আর ঘুরে দাড়াতে পারবেনা। শ্রমিকদেরকে মাসের পর মাস বেকার হয়ে থাকতে হবে। এজন্য মালিকের চেয়ে শ্রমিকের ইন্টারেস্ট বেশী। তাই কারো কোন উস্কানীতে যাতে শ্রমিকরা শিল্প কারখানার কোন ধরনের ক্ষতি সাধন না করে সেজন্য শ্রমিক নেতাদেরকে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ আগষ্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলার আঞ্চলিক ক্রাইসিস প্রতিরোধ কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, বর্তমানে জাতির জন্য ভয়ঙ্কর ক্রান্তিকাল চলছে। এখন ন্যায় নীতির পক্ষে দাঁড়ানোর সময়। সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়। পাশে দাঁড়ানোর সময়। আমি সকলের উদ্দেশ্যে মেসেজটি দিতে চাই গত কয়েকদিনে যারাই যা করেছেন সব রেকর্ড আছে। একটা লোকও ছাড় পাবেনা। যেখানে যা কিছু করছে সব কিন্তু সেনাবাহিনীর কাছে রেকর্ড সংগৃহীত হচ্ছে। এখন হয়তো আমাদের প্রোটেষ্ট করার মতো ব্যবস্থা নেই। পুলিশ নেই, বিজিবিও টহলে নামেনি। সেনাবাহিনী ও র্যাব টহল দিচ্ছে। আশা করছি আগামী কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমানে ৮০ শতাংশ কারখানায় শ্রমিকদের বেতন ভাতা প্রদানে দেরী হতে পারে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নররা সকলেই পদত্যাগ করেছে। অনেকেই সঠিক সময়ে শিপমেন্ট করতে পারেননি। ব্যাংকের নানা জটিলতা রয়েছে। এজন্য এই ক্রান্তিকালে শ্রমিকদের ধৈর্য্য ধরতে হবে।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাকিব আল রাব্বি, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, গার্মেন্টস মালিক সালাউদ্দিন আহমেদ শামীম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি এম এ শাহীন, সেক্রেটারী ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি সেলিম মাহমুদ, গণসংহতির অঞ্জন দাস, শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম গোলক, মাহমুদ হোসেন, গাজী মোঃ নূরে আলম, এস এম কাদির, আবু সাঈদ, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

