ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি
ছাত্রলীগের অরাজকতা ও নাশকতা ঠেকাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা কলেজের নেতাকর্মী।
শনিবার (০৪ জানুয়ারি) বিকাল সোয়া চারটার দিকে এ কর্মসূচি পালিত করেন তারা। মিছিলটি ঢাকা কলেজের মুল ফটক থেকে শুরু করে সাইন্সল্যাব মোর হয়ে মূল ফটকে এসে সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে “হৈ হৈ রৈ রৈ ছাত্রলীগ গেলি কৈ, একটা একটা লীগ ধর ধরে ধরে জেলে ভর, সন্ত্রাসী লীগের বিরুদ্ধে আগুন জ্বালো একসাথে, ছাত্রলীগের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে, সন্ত্রাসী লীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, ২৪শের বাংলায় ছাত্রলীগের ঠায় নাই এবং ছাত্রলীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না ” ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।
এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা কলেজের সদস্য সচিব সজিব উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা ঝটিকা মিছিল ও তাদের ব্যানারে প্রোগ্রাম করার অপচেষ্টা করেছে। ছাত্রলীগকে বাংলাদেশ সরকার অবৈধ ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। তারপরও এই জঙ্গি গোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে তাদের জন্মদিন পালন করেছে। তার প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা কলেজ এই প্রতিবাদ মিছিল পালন করেছি। আমাদের আজ ক্যাম্পাসের এবং নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি ছিল। যাতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা কোন প্রকার নাশতা না করতে পারে এবং জনজীবনে বিঘ্ন না ঘটাতে পারে। আমরা সে ব্যাপারে শক্ত অবস্থানে ছিলাম।
এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা কলেজের যুগ্ম আহ্বায়ক আমান উল্লাহ ফারাবী বলেন, বিপ্লব পরবর্তী সময়ে আমরা সবাই যখন একসাথ হয়েছি, ঠিক সেই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের দোসররা বিভিন্নভাবে অরাজকতা করার চেষ্টা করছে। আমরা ঢাকা কলেজ থেকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—ছাত্রসমাজ কিন্তু এখনো রাজপথে রয়েছে। আপনারা দেখছেন আমি নিজে অসুস্থ অবস্থাও রাজপথে এসেছি। তার মানে আমরা কিন্তু বসে নেই। আওয়ামী লীগের গুণ্ডা পান্ডারা যদি ভেবে থাকে, আমরা দমে গিয়েছি তাহলে তারা ভুল সিদ্ধান্তের মধ্যে আছে। আমরা ছাত্রলীগের গুণ্ডাদের বার্তা দিতে চাই—বিশেষ করে ঢাকা কলেজ এবং নিউমার্কেট সহ ঢাকার আশেপাশে যেন কোনভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না করার চেষ্টা করে। আমরা তাদের প্রতিহত করার জন্য রাজপথে আছি।
উল্লেখ্য, ৪ঠা জানুয়ারি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। সরকার পতনের পর আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তীকালিন সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে।

