• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

কর্মক্ষেত্রে এন্টি হ্যারেসমেন্ট কমিটিকে জোরদার করতে হবে

প্রকাশ: সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১০:২৪
আপডেট: সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১০:২৪

কর্মক্ষেত্রে এন্টি হ্যারেসমেন্ট কমিটিকে জোরদার করতে হবে

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

দেশের প্রতিটি অফিস বা কর্মক্ষেত্রে এন্টি হ্যারেসমেন্ট কমিটি থাকবে এটা আইন করে দেয়া হয়। তবে কর্মক্ষেত্রে এই কমিটি থাকলেও এর প্রভাব সেভাবে লক্ষণীয় নয়। বিভিন্ন বাঁধা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় প্রতিনিয়ত। তাই কর্মক্ষেত্রে এই এন্টি হ্যারেসমেন্ট কমিটিকে জোরদার করতে হবে। যাতে এটা কার্যকর থাকে।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সমতায় তারুণ্য- ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি প্রকল্পের অধীন ‘গণমাধ্যমে জেন্ডার-সংবেদনশীল ভাষা’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা। আলোচনা সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং এম্বাসি অফ দি কিংডম অফ নেদারল্যান্ডস, ঢাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সানজিদা আখতার, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) সহযোগী অধ্যাপক (অস্থায়ী) মনিরা শরমিন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডিরেক্টর ইনফ্লুয়েন্সিং, ক্যাম্পইেন এন্ড কমিউনিকেশনস নিশাত সুলতানা, এম্বেসি অফ দি কিংডম অফ নেদারল্যান্ড ঢাকার সিনিয়র পলিসি এডভাইজার- জেন্ডার এন্ড সিভিল সোসাইটি মাশফিকা জামান সাটিয়ার, ডেইলি স্টার পত্রিকার জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক জায়মা ইসলাম।

অধ্যাপক ড. সানজিদা আখতার বলেন, একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে যদি আমি দেখি তাহলে মনে হবে পত্রিকাতে অনেক নারীর ছবি আমরা দেখি, সফলতার চিত্র দেখি, কোন নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই নির্যাতিত নারীর নাম পরিচয় গোপন রেখে সংবাদ প্রকাশিত হয় বা বিশ্লেষণ হয়; তাই অনেকের কাছে মনে হতে পারে আবার অনেকের মনে হয়ও যে সবকিছু ঠিক আছে, যথেষ্ট জেন্ডার সংবেদনশীল হয়েছে। কিন্তু যদি ভাষার বিষয়ে আসেন তাহলে বলবো ভাষা কিন্তু কেবল শব্দতে নয়। ভাষা হচ্ছে একটা সোশাল কনসট্রাকশন। আমি কেবল মেন উইমেনের জায়গায় হিউম্যান দিবো, চেয়ারম্যানের জায়গায় চেয়ারপারসন লিখবো বা পত্রিকায় বেশি নারীদের ছবি দিলাম তাতে আমরা বিরাট পরিবর্তন হয়ে গেল বা সংবেদনশীল হয়ে গেলাম, এভাবে হয় না। যদিও এটা প্রথম পদক্ষেপ। কিন্তু ভাষাকে যদি আমরা বুঝতে চাই, ভাষার মাধ্যমে চিত্রায়ণ দেখতে চাই তাহলে আসলে ভাষা বিষয়টা অনেক গভীর।

তিনি বলেন, যেসব নারী সাংবাদিকরা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছে তারা যতটা জেন্ডার সংবেদনশীলতা ধারণ করছে পরিবেশটা তারা সেরকম পাচ্ছে না। সেই জেন্ডার সংবেদনশীলতাকে প্রকাশ করতে মিডিয়ার মাধ্যমে বা যেই জায়গায় তারা কাজ করছে সেই জায়াগাটাতে। তাই যখন ঢালাওভাবে আমরা গণমাধ্যমের কথা বলছি তখন এই জায়গাগুলোকে নিয়েও চিন্তা করতে হবে। সব ধরনের নারীদের ভয়েস আমাদের উঠিয়ে আনতে হবে।

নারীদের সাইবার বুলিং নিয়ে তিনি বলেন, সাইবার বুলিং থেকে কোন নারী বেঁচে আছেন এটা আমার মনে হয় না এটা কিন্তু গভীর বেদনার কথা। সাইবার বুলিং কিরকম হচ্ছে এটা নিয়ে যত আলোচনা হয়, সাইবার বুলিং কিভাবে ঠেকানো যাবে সেই আলোচনাটা কিন্তু খুব কম পাই। আমাদের প্রত্যেকটি কর্মক্ষেত্রে এন্টি হ্যারেসমেন্ট কমিটি থাকবে এটা আইন করে দেয়া হয়েছে। তবে এটা শুনতে ভালো উদ্যোগ হলেও এটার ইমপ্লিকেশনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এটাকে জোরদার করতে হবে। এটা যাতে কার্যকর থাকে।

নিশাত সুলতানা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বা সাংবাদিকতায় যেসব ভাষা ব্যবহার করা হয় সেগুলো আসলে বিচ্ছিন্ন কোন বিষয় না। আমরাতো আসলে একেকটা সংস্কৃতিকে ধারণ করি। কাজেই সংবাদমাধ্যম হলেই যে আমি আলাদাভাবে লিখবো সেটাতো না। সেটাতো বিশ্বাসের জায়গা, আর এই বিশ্বাসতো একদিনে পরিবর্তন হবে না। তাই আমার মনে হচ্ছে পরিবর্তনটা আসলে সব ক্ষেত্রেই দরকার। আমরা মনে করছি, আমাদের তরুণ প্রজন্ম যারা আছেন অর্থাৎ তারুণ্য; এই তারুণ্যের শক্তির মাধ্যমেই আমরা সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছি।

তিনি বলেন, পরিবর্তন নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু ডিজিটাল স্পেসে নারীরা যে হয়রানির শিকার হচ্ছে সেখানে কিন্তু আমরা কোন শক্ত প্রতিবাদ দেখি না। আমার মনে হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই জায়গায় কাজ করা দরকার। ডিজিটাল স্পেসে নারীদের নিরাপত্তা এখন সময়ের দাবি।

মাশফিকা জামান সাটিয়ার বলেন, শুধু নারী আর পুরুষের মধ্যেই যে এতো ভেদাভেদ তাছাড়া আরও যারা আছে ভালনারেবল গ্রুপগুলো তাদের কথাতো আমরা আনতেই পারি না। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও মনে হচ্ছে আমরা সেই ৭০ এর সময়েই পড়ে আছি। এখনো তেমন আমরা আগাতে পারি নাই। যতটুকু এগিয়েছে এটা কিন্তু নিজের শক্তিতে এগিয়েছে। এখানে আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র বা আইন কিন্তু আমাদের সেভাবে ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়নি।

তিনি বলেন, আমরা এতোকিছু করছি, আমাদের দেশে নারীরা প্রধানমন্ত্রী ছিলো এতো বছর যাবৎ, কয়েকজন পুরুষ রাষ্ট্রপতি ছাড়া। তারপরও কেনো আমাদের দেশের নারীদের অবস্থান কেন উঠে আসছে না? আমরা (নারী) দেশের অর্ধেকের বেশি। আমাদের পিছিয়ে রেখে কী পুরুষরা এগিয়ে যেতে পারবে? আমরা যদি হাত না মিলাই তাহলে কী দেশটাকে ওই পর্যায়ে নেয় সম্ভব? তাই আমাদের ওই অধিকারটাও দেয়া দরকার যে, আমরাও মানুষ আমাদের অধিকার আছে এবং আমাদের প্রাপ্য সন্মান দিতে হবে।