বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা বর্তমানে চরম অব্যবস্থাপনার শিকার। সারা দেশে অসংখ্য হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠলেও সেগুলোর বেশিরভাগই ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না। দক্ষ চিকিৎসক নেই, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই, জরুরি ওষুধ নেই—তবুও চলছে রোগীদের চিকিৎসা!
ভুল চিকিৎসার কারণে প্রতিনিয়ত রোগী মৃত্যুর সংবাদ আমাদের সামনে আসে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। প্রশ্ন জাগে—বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন কি এতটাই মূল্যহীন? চিকিৎসা সেবা যাঁরা দেওয়ার কথা, তাঁদের দায়িত্বহীনতা, অবহেলা, আর কখনো কখনো অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মানুষের জীবন যেন দুঃসহ যন্ত্রণায় জর্জরিত হয়ে উঠছে।
একজন মুমূর্ষু রোগী যখন হাসপাতালে আসেন, তখন তাঁকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়, কারণ সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা নেই। ফলে অনেক সময় পথেই রোগীর মৃত্যু হয়, অথবা পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় জটিলতা আরও বেড়ে যায়। অথচ এই পরিস্থিতি প্রতিরোধের জন্য হাসপাতালগুলোর উচিত ছিল জরুরি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, অক্সিজেন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা রাখা এবং দক্ষ ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
শুধু তাই নয়, বিভিন্ন হাসপাতালের রোগ নির্ণয় পরীক্ষার যন্ত্রপাতি হয়তো নষ্ট, নয়তো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। এতে করে রোগীদের ভুল রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে, যা জীবন-মরণের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। একজন রোগী যদি ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে ওষুধ গ্রহণ করেন, তাহলে তা তাঁর জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
এই অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের সমাধান জরুরি। সরকারকে অবশ্যই কঠোরভাবে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষ ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ, জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা, এবং নিয়মিত তদারকি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ছাড়া এই সংকট নিরসন সম্ভব নয়। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার—তাই এই খাতে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি মেনে নেওয়া যায় না।

