জনতার আওয়াজ ডেস্ক
কোরবানির ঈদ উদযাপনের পর একদিন পেরিয়ে গেলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো অপসারণ করা হয়নি কোরবানির পশুর বর্জ্য। বিশেষ করে মিরপুর-১৪ নম্বর, আগারগাঁও, কামাল সরণি (৬০ ফুট সড়ক), পীরেরবাগ, মধ্যমণিপুর ও পশ্চিম আগারগাঁও এলাকায় রোববার সকালেও অলিগলিতে বর্জ্যের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পথচারীরা নাক চেপে চলাফেরা করছেন। যদিও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ শনিবার রাতেই শতভাগ বর্জ্য অপসারণের দাবি করেছিল। তবে বাস্তবে ভিন্ন চিত্র চোখে পড়েছে।
গতকাল শনিবার রাত ৯টা ৪১ মিনিটে ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা রাসেল রহমান বার্তা দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ১২ ঘণ্টার আগেই দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ড থেকে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের কাজ শেষ করা হয়েছে। বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে ১২ হাজার টন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩১৭টি পশু প্রথম দিনে কোরবানি দেওয়া হয়েছে বলেও ওই বার্তায় জানানো হয়।
এরপর রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা উত্তর সিটির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ঈদের দিন উত্তর সিটি এলাকায় শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা শেষ হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী সাড়ে ৮ ঘণ্টায় ঈদের দিনের বর্জ্য অপসারণ করেছেন। এদিন ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় সাড়ে ৯ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
তবে রবিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অলিগলিতে এখনো বর্জ্যের স্তূপ পড়ে আছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানিয়েছেন, শনিবার বিকেলেই এসব বর্জ্য স্তুপ করে রাখা হয়, কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে কোনো বর্জ্যবাহী গাড়ি না আসায় তা রয়ে গেছে।
এর আগে কলাবাগান শিশুপার্ক–সংলগ্ন এসটিএস কেন্দ্র থেকে শনিবার দুপুর ১টার দিকে দক্ষিণ সিটির আনুষ্ঠানিক বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং সিটি প্রশাসক শাহজাহান মিয়া। তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন, ১২ ঘণ্টার মধ্যে শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হবে। কিন্তু রবিবার সকালেও ওই এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রায় এক-চতুর্থাংশ বর্জ্য এখনো পড়ে আছে।
ধানমন্ডি ৮ নম্বর এলাকাতেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

