• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

বিশ্বব্যাপী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান প্রধান বিচারপতির

প্রকাশ: বুধবার, ১১ জুন, ২০২৫ ৩:০৫
আপডেট: বুধবার, ১১ জুন, ২০২৫ ৩:০৫

বিশ্বব্যাপী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান প্রধান বিচারপতির

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

বিশ্বব্যাপী আঞ্চলিকভাবে, জাতীয়ভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

মঙ্গলবার (১০ জুন) রাতে ইউএনডিপির বার্ষিক রুল অব ল সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এমন আহ্বান জানান। নিউইয়র্কে এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন (১০ থেকে ১২ জুন) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মলনে প্রধান বিচারপতি অনলাইনে যুক্ত হয়ে ভাষণ দেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ইউএনডিপির ২৫তম বার্ষিক আইনের শাসন ও মানবাধিকার সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দিতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আমি বিশ্বব্যাপী আঞ্চলিকভাবে, জাতীয়ভাবে আইনের শাসন প্রচার, প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায্য ও সমান ন্যায়বিচার প্রদানকে সমর্থন করা, সবার জন্য ন্যায়বিচারের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখার জন্য আমাদের কাজ আগের চেয়েও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জাতিসংঘ সনদের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে নিহিত। ২০২৪ সালের ভবিষ্যতের চুক্তিতে টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা জোরদার করা, সবার জন্য ন্যায়বিচারের সুযোগ প্রদান করা এবং সব স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে জাতিসংঘকে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে তাদের আইনের শাসন সমর্থনকে শক্তিশালী এবং উন্নত করতে হবে। শক্তিশালী এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ গড়ে তোলা এত কঠিন যে এই ধারণার মুখোমুখি হয়েও আমি এই মিশনকে সমর্থন করার জন্য জাতিসংঘকে আহ্বান জানাচ্ছি।

পরিবর্তনশীল দেশগুলোতে আইনের শাসন সংস্কারের কেন্দ্রীয়তা এবং জাতিসংঘের বিশেষ করে ইউএনডিপির গভীর এবং সুদূরপ্রসারী ন্যায়বিচারকে কার্যকরভাবে সমর্থন করার ক্ষমতা উভয়েরই একটি প্রধান উদাহরণ। ব্যাপক ও বিশেষায়িত দক্ষতা এবং রূপান্তরমূলক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি।

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সংস্কার রোডম্যাপের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থার পতনের পর নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু করে। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিপ্লবে অন্যায়, স্বেচ্ছাচারিতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণদের এক অভূতপূর্ব বিদ্রোহ এবং ন্যায়বিচারের এক স্পষ্ট প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিপ্লবের চূড়ান্ত মূল্য পরিশোধের লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিচারিক সংস্কারের জন্য একটি রূপান্তরমূলক এজেন্ডার মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধারের আমার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ৪২ লাখের বেশি মামলার জট এবং বিচার বিভাগের প্রতি গভীরভাবে প্রোথিত অবিশ্বাস, ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিকরণের কারণে ক্ষয়ে যাওয়া বিচার বিভাগ সংস্কারে আমাকে নিরুৎসাহিত করেনি। বরং, যারা রাস্তায় নেমেছিল ন্যায়বিচারের জন্য, বাংলাদেশের জনগণের চাহিদা এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে সংস্কার রোডম্যাপ ঘোষণা করি। আমাদের সংস্কার রোডম্যাপের মূল লক্ষ্য বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা এবং দক্ষ বিচার বিভাগ গড়ে তোলা।

রেফাত আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক মান ও নিয়মাবলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সততা, ডিজিটাল রূপান্তর, জনকেন্দ্রিক পদ্ধতি এবং প্রচারণা সংক্রান্ত পরামর্শসহ প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নে ইউএনডিপি আমাদের সহায়তা করে আসছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য এবং সুইডেনসহ ক্রমবর্ধমান সংখ্যক আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ইউএনডিপি বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার উপর দেশব্যাপী বিচার বিভাগীয় আলোচনার আয়োজনে সহযোগিতা করেছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ইউএনডিপি দ্বারা সমর্থিত ট্রানজিশনাল ন্যায়বিচার সরঞ্জামগুলোর উপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক মতবিনিময় আমার এই দৃঢ় বিশ্বাসকে পুনরুজ্জীবিত করেছে যে, বিচার বিভাগের সুদূরপ্রসারী এবং রূপান্তরকারী সংস্কারগুলো অন্যায্য এবং স্বৈরাচারী শাসন থেকে স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ গণতন্ত্রে যেকোনো রূপান্তরের ক্ষেত্রে সংস্কারের ভিত্তি হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, সাংবিধানিকতা, বৈধতা এবং মানবাধিকারের অভিভাবক হিসেবে অন্যান্য সব সংস্কার প্রচেষ্টার সম্মতি প্রদানকারী বিচার বিভাগকে অবশ্যই প্রথমে স্বৈরাচারী কব্জা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হবে এবং আমাদের আদালতের সামনে ন্যায়বিচার প্রার্থীদের জন্য কার্যকর প্রতিকার প্রদানকারী একটি স্বাধীন এবং বিশ্বস্ত বিচারক হিসেবে নিজেকে রূপান্তরিত করতে হবে।

বাংলাদেশকে উন্নত ভবিষ্যতের দিকে উত্তরণের উদাহরণ হিসেবে যতটা সম্ভব, অস্থির ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার সংস্কারের আমাদের দৃঢ় প্রচেষ্টা সব বাংলাদেশি পুরুষ ও নারীর জন্য আশার স্তম্ভ হয়ে থাকবে। এটা মনে রাখতে হবে, যখন ন্যায়বিচার অনুপস্থিত থাকে, তখন তা রাস্তায় প্রতিফলিত হবে। ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠা আমাদের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানবাধিকারের প্রচারের দিকে নিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com