• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

রাজনীতি

আহতদের পাশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫ ২:৪১
আপডেট: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫ ২:৪১

আহতদের পাশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি:সংগৃহীত
বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের ওপর সোমবার বিধ্বস্ত হয়। এতে হতাহত হয়েছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। এদিন বিকালে আহতদের দেখতে বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। তারা আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন ও চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদানের পরামর্শ দেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিও আহতদের জন্য চিকিৎসা নিশ্চিতে মেডিকেল টিম গঠন করেছে। এছাড়া ঘটনার পর থেকেই আহতদের জন্য রক্ত সংগ্রহ ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে মেডিকেল টিম গঠন করে কাজ করছে বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন-যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। একই ধরনের সহায়তা করতে দেখা গেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ আরও কয়েকটি ছাত্র সংগঠনকে।

দগ্ধদের দেখতে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি তাদের চিকিৎসার খোঁজ নেন। জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর আগে জামায়াতের আমির উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজে ছুটে যান। তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদানের পরামর্শ দেন। আহতদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নিতে উত্তরা আধুনিক মেডিকেলে যান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ঢাকা মহানগর উত্তর সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ আনোয়ার হোসেন ও মুহাম্মাদ নাজমুল হাসান।

এদিকে বিকালে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের স্থান পরিদর্শন করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে আরও ছিলেন কেন্দ ীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এর আগে প্রতিনিধিদলটি উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে যান অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রশিক্ষণ বিমান চালানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিএনপির এই নেতা সাংবাদিকদের বলেন, বিমানবন্দরের পাশে কী ধরনের লোকালয় গড়ে উঠবে, তার পরিকল্পনা থাকা উচিত।

রিজভী বলেন, ‘এ এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এ এলাকার মধ্যে প্রশিক্ষণ বিমান দিয়ে উড্ডয়ন শিখবে, এটা আমার কাছে রহস্যজনক মনে হয়। এটা বিস্তীর্ণ প্রান্তরে হতে পারে। যশোর, কক্সবাজারের মতো জায়গায় হতে পারে। সেখানে পাশে সমুদ্র আছে, বিস্তীর্ণ জায়গা আছে। কিন্তু এ ধরনের ঘনবসতিপূর্ণ জায়গায় প্রশিক্ষণ বিমানে প্রশিক্ষণ নেবে, এটা কোনোভাবেই যেন মেনে নিতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘নেভিগেশন বা টেকনিক্যাল বিষয়গুলো আমি অবশ্যই জানব না। কিন্তু সাদা চোখে যেটা মনে হয়েছে, চারদিকে এত বাড়িঘর, মানুষ থইথই করছে, এর মধ্যে একটা প্রশিক্ষণ বিমানে প্রশিক্ষণ নিতে পারে না। এটা নিয়ে প্রশাসন, সরকারের গুরুদায়িত্ব আছে। দায়িত্বে অবহেলা করলে প্রতিনিয়ত মানুষের জীবন বিপন্ন হতে থাকবে।’

রিজভী বলেন, ‘বিমানবন্দরের পাশে কী ধরনের লোকালয় গড়ে উঠবে, তার পরিকল্পনা থাকা উচিত। আমার মনে হয়, যেসব লোকালয় গড়ে উঠেছে, তা পরিকল্পনার অংশ নয়। এত ঘনবসতি এই এলাকায় হতে পারে না।’

বিএনপির নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে জানিয়ে রিজভী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীরা রক্তের জোগান দেওয়াসহ অন্যান্য সহযোগিতা করছেন। দলের কয়েকটি কর্মসূচিও স্থগিত করা হয়েছে।