ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ, সমাজ চিন্তক, লন্ডন
বাংলাদেশের সংসদে উচ্চকক্ষ স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নিম্ন কক্ষে পাস হওয়া যেকোনো আইনকে আরও ভালোভাবে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করার সুযোগ করে দেবে। সংসদে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টির যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া বিলটিই আইনে রূপান্তরিত হবে। এই প্রস্তাবনা অনুসারে, উচ্চকক্ষটি জনস্বার্থে ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
আমার সুচিন্তিত প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের জন্য প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য নির্বাচন পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে। এখানে একাধিক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব থাকায় বৈচিত্র্যময় মতামত উঠে আসবে যা একটি পরিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে। নিম্নে এই প্রস্তাবিত সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি তুলে ধরা হলোঃ
১. জেলা ভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব
দেশের ৬৪ জেলার প্রতিটি থেকে একজন দক্ষ আইনজীবীকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে, যারা জেলা জাজ কোর্টের সদস্য থাকবেন, তবে জেলা বারের সভাপতি নন। এটি স্থানীয় স্তরে আইনশাস্ত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
২. শিক্ষাবিদদের প্রতিনিধিত্ব
পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ৫ জন অভিজ্ঞ অধ্যাপক থাকবেন, যারা আইন বিষয়ে যথেষ্ট গবেষণামূলক কাজ করেছেন। তাদের অন্তর্ভুক্তি উচ্চকক্ষের বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধি আনবে।
- সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্ব
সরকার ও বিরোধীদলের সুপারিশের ভিত্তিতে সুশীল সমাজ থেকে ২ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। এরা নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করতে পারবেন এবং জনসাধারণের চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করবেন।
- ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব
দেশের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী থেকে নির্বাচিত ২ জন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরা দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান করবেন, যা জাতীয় অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে।
- সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব
সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ১ জন প্রতিনিধি থাকবেন, যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব ও অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে।
- বিচার বিভাগের প্রতিনিধি
উচ্চ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি
সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের মতামতের ভিত্তিতে উচ্চ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত ২ জন বিচারপতিকে নির্বাচিত করা হবে, যাদের মধ্যে ১ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা। তাদের বিচারিক অভিজ্ঞতা উচ্চকক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সুবিবেচনাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করবে।
- প্রবাসী প্রতিনিধি
প্রবাসীদের ১ জন প্রতিনিধি থাকবেন, যিনি কোন উন্নত দেশের উচ্চ আদালতে প্রাক্টিস করেন।
মোট সদস্য সংখ্যা: ৭৭ জন
এই প্রস্তাবনা অনুসারে, ৭৭ জনের এই উচ্চকক্ষ জাতীয় আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় একটি মূল্যবান সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করবে।
নোটঃ সদস্য সংখ্যা বাড়ানো বা কমানো যাবে।

