• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

আন্তর্জাতিক

ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে মুসলিমদের বাংলাদেশে বিতাড়ন করছে ভারত: রয়টার্স

প্রকাশ: সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫ ১:৫৪
আপডেট: সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫ ১:৫৪

ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে মুসলিমদের বাংলাদেশে বিতাড়ন করছে ভারত: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফাইল ছবি। সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে মুসলিমদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে উচ্ছেদ ও বাংলাদেশে বিতাড়নের অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

সোমবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত এক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহে আসামের বিভিন্ন জেলায় হাজারো মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে তাদের বসতবাড়ি।

রয়টার্স জানায়, বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা আসামের একটি অঞ্চলে এখন শত শত মুসলিম নারী, পুরুষ ও শিশু নীল ত্রিপলের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এসব মানুষ সরকারি জমিতে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, তারা বছরের পর বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে বিক্ষোভ ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের জনমিতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করছে।’

রয়টার্স আরও দাবি করেছে, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি দল দেশটির নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ থেকে আগত অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ খুলে দিলেও মুসলিমদের জন্য দমনমূলক নীতি অনুসরণ করছে। আসামের সাম্প্রতিক অভিযানে যেসব মানুষ উচ্ছেদ হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম।

ভারতের বিরোধী দলগুলো বলছে, এই পদক্ষেপগুলো আগামী নির্বাচনে ভোটারদের মেরুকরণ ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কৌশল। কংগ্রেসসহ কয়েকটি দল উচ্ছেদ বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আহ্বান জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের কিছু রাজ্যে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ঘোষণার পর বহু মুসলিম নাগরিককে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে। যদিও তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিবাসন রোধের নামে চালানো এই অভিযান বাস্তবে একটি বৈষম্যমূলক প্রক্রিয়া, যা মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।