জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, অনেকেই সংসদের উচ্চকক্ষ নিয়ে খুব উত্তেজিত। উচ্চকক্ষের মাধ্যমে আপনি ফ্যাসিস্ট আটকাতে পারবেন? উচ্চকক্ষ তো পাশের ভারতেও আছে। এর কাজটা কী? আপার চেম্বারে কাজ হচ্ছে পুরস্কৃত করা। মানে রাজনৈতিক দলগুলো যাদের এমপি বানাতে পারে না তাদেরকে পুরস্কৃত করাটাই হচ্ছে আপার চেম্বারের কাজ। দালাল বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, মিডিয়া পার্সোনালিটি তাদের পাঠানো হবে। নারী সংরক্ষিত আসনের উদাহরণ আমাদের জানা আছে। আপার চেম্বারের মাধ্যমে কোনো মিনিংফুল সংস্কার হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না।
শনিবার (৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সেন্টার ফর সিভিল রাইটস আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই ঘোষণাপত্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, খসড়াটি কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে পড়ে বোঝা অসম্ভব। যে বিপ্লবে একজন রিকশাচালক, একজন গ্রামের কৃষকের সন্তান, শ্রমজীবী মানুষ অংশগ্রহণ করেছে, তাদের আকাঙ্ক্ষার এক্সপ্রেশন কোথায় জুলাই ডিক্লারেশনে? তারা বুঝবে কী করে এটা পড়ে? এত লম্বা একটা ডকুমেন্টের প্রয়োজন ছিল কিনা এবং এত লিগালিস্টিক করা হয়েছে কেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে এর মর্ম উদ্ধার করা অসম্ভব। আমি এর অর্ধেক বুঝতে পারি না।
তিনি বলেন, বিপ্লবের যে আবেগ, যে অনুভূতি, লিগালিস্টিক কারণে কেউ কি জীবন দিতে চায়? কেউ কি আবু সাঈদের মতো পুলিশের উদ্যত বন্দুকের সামনে দাঁড়ায়? দাঁড়ায় আবেগের জন্য — দেশের প্রতি ভালোবাসা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা। সেই রিফ্লেকশন কোথায় জুলাই ডিক্লারেশনে? কারা ড্রাফট করেছে এটি?
তিনি বলেন, আমি সম্ভবত অক্টোবর মাসে বলেছিলাম, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো নাম পরিবর্তন করে এটাকে বিপ্লবী সরকার করতে পারেন। তারা করেন নাই। এই জন্যই আজ পর্যন্ত এই বিতর্ক চলছে, এটা বিপ্লব, অভ্যুত্থান, রেভল্যুশন না আপরাইজিং — এটা কী? সবথেকে মজার কথা হলো, আমরা যে জুলাই ডিক্লারেশন দেখলাম সেখানে বারেবারে অভ্যুত্থান বলা হয়েছে। আপনি জুলাই ডিক্লারেশন যদি পড়েন, সর্বত্র অভ্যুত্থান, কোথাও বিপ্লব না। তার মানে, এই সরকারই তো স্বীকার করছে না যে এটা বিপ্লব হয়েছে; এই সরকারই মনে করে এটা বিপ্লব হয়নি, এটা অভ্যুত্থান হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের হেজিমনির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার শক্ত ভূমিকা নিয়েছে, এটা তাদের অন্যতম সফলতা। তবে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে তাদের অবস্থান ভিন্ন হতে পারে, তাই আমাদের সজাগ থাকতে হবে। তরুণদের মধ্যে গত ছয় বছরে অসাধারণ পরিবর্তন হয়েছে; ভারতের হেজিমনি প্রশ্নে অনমনীয়তা এবং মুসলমানিত্বের প্রশ্নে হীনমন্যতা দূর হয়েছে। ফ্যাসিস্ট রেজিমের ১৫ বছরের ব্রেনওয়াশ ব্যর্থ হয়েছে। ব্যক্তিকে মূর্তি বানিয়ে সে মূর্তি পূজার প্রচেষ্টা তরুণরা ভেঙে দিয়েছে। জুলাই বিপ্লবে শহীদদের মধ্যে ৫০ বছরের বেশি বয়সী কাউকে আমি পাইনি, তরুণরাই পেরেছে, আমরা পারিনি।
আমার দেশ সম্পাদক বলেন, আগামী নির্বাচন বানচাল করার জন্য ভারত চেষ্টা করবে, এটা মাথায় রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও ভারতীয় এজেন্ট কাজ করছে। দিল্লিতে ষড়যন্ত্র চলছে, স্যাবোটাজ হতে পারে। যদি নির্বাচন আটকে দেওয়া যায়, তখন লেজিটিমেসির প্রশ্ন আরও জোরালোভাবে আসবে।
বিচারপতি এফ. এম. আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক, সেন্টার ফর সিভিল রাইটস-এর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশীদ প্রমুখ।













