• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সারাদেশ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুক নদীতে মাছ ধরা উৎসব

প্রকাশ: রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ৩:৫১
আপডেট: রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ৩:৫১

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুক নদীতে মাছ ধরা উৎসব

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুক নদীর তীরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় চলছে তিন দিনব্যাপী মাছ ধরার উৎসব। বাঁধের পানি নামতেই আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ ভিড় জমিয়েছেন সেখানে। কেউ ঠেলা জাল, কেউ পলো, আবার কেউ টানা জাল নিয়ে নেমে পড়েছেন পানিতে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে মাছ ধরা ও বিক্রির কার্যক্রম। চারপাশে যেন উৎসবের আমেজ।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর এই সময়টাতে বাঁধের পানি ছেড়ে দিলে শুরু হয় মাছ ধরার উৎসব, যা চলে টানা তিন দিন। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও পিছিয়ে নেই। অল্প পানিতে মাছ ধরতে ব্যস্ত তারা। কেউ মাছ ধরছেন শখের বসে, কেউ আবার পরিবারের চাহিদা মেটাতে।

ঠাকুরগাঁও সদরের গোয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক লাল মিয়া বলেন, ‘সারা বছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকি। মাছ ধরা মানেই আনন্দ। পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে আসি, সবাই মিলে আনন্দ করি।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন বলেন, ‘মাছ ধরার পাশাপাশি এখানে অনেকেই টাটকা মাছ বিক্রি করেন। দাম একটু বেশি হলেও সবাই কিনছেন, কারণ এসব মাছ সম্পূর্ণ দেশি ও টাটকা।’

তবে অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, আগের মতো দেশি মাছ এখন আর তেমন পাওয়া যায় না। আগে বুড়ির বাঁধে প্রচুর রুই, কাতলা, শোল, মাগুরসহ নানা প্রজাতির মাছ মিলত, এখন সেগুলো অনেকটাই কমে গেছে। মৎস্যশিকারি আব্দুল করিম বলেন, ‘ছোট থেকেই এই উৎসবে আসি। আগে অনেক মাছ পাওয়া যেত, এখন জাল ফেললে খালি উঠে আসে। দেশি মাছ প্রায় বিলুপ্ত।’

তবুও তিন দিনের এই মাছ ধরার উৎসবকে ঘিরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে এক প্রাণবন্ত গ্রামীণ মিলনমেলা। কেউ জাল ফেলছেন, কেউ মাছ গুনছেন, কেউবা কিনে নিচ্ছেন টাটকা মাছ। উৎসবের এই পরিবেশ যেন গ্রামীণ জীবনের আনন্দ ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

ঠাকুরগাঁও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরাফাত উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ৫০ একরজুড়ে শুক নদীর ওপর নির্মিত বুড়িরবাঁধ মৎস্য অভয়আশ্রম। প্রতিবছরই একটি নির্দিষ্ট সময় এখানে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হয়। এখানে বিভিন্ন রকমের দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়।