আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কট্টর দক্ষিণপন্থী নেতা সানায়ে তাকাইচিকে নির্বাচিত করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। তাকাইচির নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে বিশ্লেষকরা বলছেন ‘ডানপন্থী জোট সরকারের সূচনা’। খবর এপি।
জুলাইয়ের নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) বিপর্যয়কর পরাজয়ের পর পদত্যাগ করা শিগেরু ইশিবার স্থলাভিষিক্ত হলেন তাকাইচি। নতুন প্রধানমন্ত্রী সংসদের নিম্নকক্ষে ২৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়োশিকোকো নোদা পান ১৪৯ ভোট।
ক্ষমতায় টিকে থাকতে তাকাইচি ওসাকাভিত্তিক ডানপন্থী জাপান ইনোভেশন পার্টি (ইশিন নো কাই)-এর সঙ্গে জোট করেছেন। এই জোট এলডিপির বহু বছরের অংশীদার কোমেইতো পার্টির সরে দাঁড়ানোর পর তৈরি হয়। সরকারের দুর্নীতি ও যুদ্ধ–ইতিহাস নিয়ে তাকাইচির অবস্থানের সমালোচনা করেছিল কোমেইতো।
তাকাইচি তার প্রথম বক্তৃতায় বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন সবচেয়ে জরুরি। স্থিতিশীলতা ছাড়া শক্তিশালী অর্থনীতি বা কার্যকর কূটনীতি সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জোট সরকার দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে। কারণ সংসদের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত নয়।
নারী প্রধানমন্ত্রী হলেও তাকাইচি লিঙ্গ সমতা বা সামাজিক বৈচিত্র্য নিয়ে উদার নন। তিনি সমলিঙ্গ বিবাহ, আলাদা পদবি ব্যবহারের অধিকার ও নারী সমঅধিকার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে তিনি সম্রাট পরিবারের পুরুষ–প্রধান উত্তরাধিকারের পক্ষে।
তাকাইচি তার রাজনৈতিক গুরু প্রয়াত শিনজো আবের নীতিই অনুসরণ করতে পারেন। অর্থাৎ জাপানের শান্তিপূর্ণ সংবিধান সংস্কার, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতি জোরদার করা।
তাকাইচি দ্রুতই তার নীতি নিয়ে বড় একটি ভাষণ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে সঙ্গে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে অংশ নেবেন। তাকে দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি মোকাবেলা করা এবং ডিসেম্বরের মধ্যে অর্থনীতি চাঙ্গা করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

