• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সারাদেশ

পর্যটন শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে: লুৎফে সিদ্দিকী

প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:৩৮
আপডেট: শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:৩৮

পর্যটন শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে: লুৎফে সিদ্দিকী

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেছেন, ‘পর্যটন দেশের অন্যতম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতগুলোর একটি। এটি আমাদের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। সুন্দরবন তার বাস্তব প্রমাণ। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বহুমুখী ধারা যুক্ত রয়েছে। আমাদের পর্যটন শিল্পে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হবে।’

বৃহস্পতিবার ১৩তম বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে (বিসিএফসিসি) তিন দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়েছে।

প্রধান অতিথি বলেন, ‘অন্য অনেক খাতই প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে; কিন্তু পর্যটন এমন একটি খাত, যা এখনো মানুষের সেবার ওপর নির্ভরশীল। সিঙ্গাপুরের মতো দেশ, যাদের তেমন ঐতিহ্যবাহী সম্পদ নেই, তারাও কীভাবে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আকর্ষণ করছে। এ বিষয়ে আমাদের ভাবা উচিত। পর্যটনকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সব স্টেকহোল্ডারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার পর্যটনের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।’

টোয়াব সভাপতি মো. রাফেউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও নুজহাত ইয়াসমিন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নায়লা আহমেদ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি ও সিইও ড. মো. সাফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মাইনুল হাসান। আন্তর্জাতিক এই মেলার আয়োজন করেছে দেশের পর্যটন শিল্পের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. সাফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুজহাত ইয়াসমিন, ট্যুরিস্ট পুলিশ বাংলাদেশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নায়লা আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়মা শাহীন সুলতানা বলেন, ‘ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত। বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা বৈচিত্র্যময়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য, নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, খাদ্য ও লোকসংস্কৃতি- সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান গন্তব্য হতে পারে।’

টোয়াব সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, ‘বিশ্বে আমাদের পর্যটন শিল্প ছড়িয়ে দিতে পারলে এর বিকাশ ঘটবে। ৪০ লাখ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়াতে অন-অ্যারাইভাল ভিসার পরিবর্তে ই-ভিসা পদ্ধতি চালু করতে হবে। দেশের অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জাম স্বল্প করের আওতায় আনা গেলে পর্যটনের আরও প্রসার ঘটবে।’

জানা গেছে, মেলায় দেশি-বিদেশি ১২০টির বেশি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান প্রায় ২২০টি স্টল এবং ২০টি প্যাভিলিয়নে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। এবারের মেলায় পাকিস্তান, নেপাল এবং ভুটানের জাতীয় পর্যটন সংস্থা ও ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন অংশ নিয়েছে। এই তিন দেশ ছাড়াও মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, তুরস্ক এবং স্বাগতিক বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্টরা অংশ নিয়েছেন। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দর্শনার্থীদের জন্য সেবা ও পণ্যের ওপর বিশেষ মূল্যছাড় দিচ্ছে। এবার মেলায় প্রবেশমূল্য রাখা হয়েছে জনপ্রতি ৫০ টাকা। তবে ছাত্রছাত্রী, মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধাদের জন্য প্রবেশ থাকবে বিনামূল্যে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।