• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

নির্বাচন

এনসিপির মনোনয়ন পেতে পারেন যারা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ২:৫৫
আপডেট: মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ২:৫৫

এনসিপির মনোনয়ন পেতে পারেন যারা

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন প্রজন্মনির্ভর রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পূর্ণ উদ্যমে নির্বাচনি প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। দলটির অবস্থান, ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে- এ বিশ্বাস নিয়েই তারা দেশব্যাপী প্রার্থী বাছাই, প্রচার ও সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এবার স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে এনসিপি। তবে নির্বাচনি কৌশলগতভাবে একাধিক আসনে অভিন্ন এজেন্ডা ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে অন্যান্য দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে সমন্বয় হতে পারে। এরই মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে- ‘নির্বাচনই এখন প্রধান লক্ষ্য’।

রাজধানীকেন্দ্রিক প্রস্তুতি
দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন ঢাকা-৯ বা ঢাকা-১১ আসনে, যা সবুজবাগ, মতিঝিল ও ডেমরা এলাকা নিয়ে গঠিত। ডা. তাসনিম জারা ইতোমধ্যে নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু করেছেন ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসনে। একইভাবে দলের যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হোসেন ও জেলা সমন্বয়কারী রাসেল আহমেদ মোহাম্মদপুর ও ঢাকা জেলার আসনগুলোতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঢাকা-৭ থেকে আরিফ ও সোহেল, ঢাকা-৪ ও ৫ থেকে এস এম শাহরিয়ার ও নিজাম উদ্দিন, ঢাকা-১৭ (উত্তরা) থেকে আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং দলের মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা-১৯ (সাভার) থেকে ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, ঢাকা-২০ থেকে আসাদুল ইসলাম মুকুল, ঢাকা-৬ থেকে খান মো. মোরসালিন এবং রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন ও সিনিয়র যুগ্ম সচিব নাহিদা সারোয়ার নিভা প্রার্থী হতে পারেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

দলটির ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকার তাদের বর্তমান সরকারি পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। তারা এনসিপিতে যোগ দিলে যথাক্রমে লক্ষ্মীপুর-১ ও কুমিল্লা-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। দলীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এনসিপির লক্ষ্য তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে রাজনীতিতে ‘নতুন নাগরিক ধারা’ তৈরি করা। প্রচলিত রাজনীতির অবিশ্বাস ও হতাশা কাটিয়ে তরুণ, পেশাজীবী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত করাই দলের মূল দর্শন।

জেলা পর্যায়ের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা
রাজধানীর বাইরে জেলা পর্যায়ে এনসিপির একাধিক নেতা ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে সভা, পোস্টার ও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। নরসিংদী-১ বা ২ আসন থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কুষ্টিয়া-১ যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, কুড়িগ্রাম-১ যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ, নারায়ণগঞ্জ-৪ যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, চুয়াডাঙ্গা-১ মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, সিরাজগঞ্জ-৫ মাহিন সরকার, টাঙ্গাইল-১ অলিক, গাইবান্ধা-৩ নাজমুল হাসান সোহাগ, ঠাকুরগাঁও-৩ গোলাম মর্তুজা সেলিম এবং সাতক্ষীরা-৩ মামুন আব্দুল্লাহ তুষার।

ইশতেহার ও কৌশল
এনসিপি ইতোমধ্যে নির্বাচনি ইশতেহারের খসড়া প্রণয়ন করেছে। এতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি দমন, ডিজিটাল নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

দলটির নির্বাচনি কৌশল অনুযায়ী তরুণ ও নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ‘ডিজিটাল প্রচার ইউনিট’ গঠন করা হয়েছে। প্রার্থী যাচাইয়ে যোগ্যতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সামাজিক সম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। দলীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যদি নির্বাচনের সময়সূচি ফেব্রুয়ারিতেই হয়, তবে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থীর তালিকা ও নির্বাচনি প্রতীক ঘোষণা করবে এনসিপি।

এ ব্যাপারে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছি। এর মধ্যে সংগঠনিক দক্ষতা, সক্ষমতা, ভবিষ্যতে তার আসনকেন্দ্রিক কর্মপরিকল্পনাসহ জুলাই অভ্যুত্থানে কেমন ভূমিকা ছিল তা মূল্যায়ন করা হবে। তরুণদের একটা জায়গা করে দেওয়ার চেষ্টা করছি। সর্বোপরি বাংলাদেশের প্রতি কমিটমেন্ট ও অতীতে কোনো খারাপ রেকর্ড আছে কি না, প্রার্থী বাছাইয়ে সে বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছি।’