• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

ফিচার পোস্ট

প্রাথমিকে সংগীত ও শরীরচর্চা পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:০৫
আপডেট: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:০৫

প্রাথমিকে সংগীত ও শরীরচর্চা পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত বিষয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ বাতিলের মধ্য দিয়ে আগামী প্রজন্মকে একটি অন্ধকার ভবিষ্যতে দিকে নিতে একটি মেধাহীন প্রজন্ম গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ধর্মের নামে যারা সঙ্গীত ও শরীরচর্চা শিক্ষা বন্ধের দাবি করছেন, তারা মূলত একটি মেধাহীন অবিকশিত বুদ্ধির প্রজন্ম গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র করছেন। তাই আগামী প্রজন্মকে মেধাবী-মানবিক সুনাগরিক হিসেবে গড়তে তুলতে সেই ষড়যন্ত্র রুখতে অবিলম্বে প্রাথমিকে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক পদ পুনর্বহালের করতে হবে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলনের আয়োজনে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অংশ নেওয়া বক্তাদের বক্তব্যে এমনটাই উঠে আসে। প্রাথমিকে এই দুই বিষয়ে পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত, দেশকে পিছিয়ে নেওয়া ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় খেলাঘর প্রণয় সাহা।

তিনি বলেন, ‘আজকে মনে হচ্ছে, আমাদেরকে মনে হয় অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মিউজিক তো পুরোপুরিভাবে বিজ্ঞানের সম্পর্কে জড়িত। এখানে কমাঙ্ক, ফ্রিকোয়েন্সী, অ্যাম্প্লিচিউড রয়েছে। গান শুধু গান না, এখানে তো মিউজিকও রয়েছে। আমরা খেলাঘর চেষ্টা করেছি, আমাদের সন্তানরা মানবিক হোক কিন্তু একটা গোষ্ঠী আগামী প্রজন্ম দিয়ে অন্ধকারের মধ্য দিয়ে ঠেলে দিতে ব্যস্ত। আর এই মৌলবাদের পক্ষে যারা কাজ করছেন, তারা এই দেশটাকে পিছিয়ে নিতে চায়।’

রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ড. মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা এখানে কারো বিপক্ষে আসিনি, আমরা এসেছি আমাদের শিশু-কিশোরদের জন্য। যারা আগামীতে মেধাবী, রুচিশীল ও সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে একটি সুন্দর দেশ গড়বে। যখন প্রাথমিকে সংগীত ও শরীরচর্চা পদ বাতিলের গুরুত্ব বুঝে যখন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যখন কি-না আমরা আলোর দিকে যাচ্ছিল কিন্তু হঠাৎ করে কিছু অন্ধকার মানুষ আমাদের আলোর দিকে না গিয়ে অন্ধকার নিয়ে গেলো আমাদের দাবি, অবিলম্বে প্রাথমিকে সংগীত ও শরীরচর্চা পদ পুনর্বহাল করতে হবে।’

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির প্রেসিডিয়াম সদস্য আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কোন কোয়ালিটি নেই। এক প্রাথমিকে কয়েকটি স্ট্রিম, বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। কেন এই ভাগ, শুরুতেই তো একধরনের বৈষম্যের শিক্ষা পাচ্ছে, আমাদের সন্তানরা। এখন আবার নতুন করে প্রাথমিকে সংগীত ও শরীর চর্চা শিক্ষক পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো অথচ সুদীর্ঘ কাল থেকে শরীর ও সংগীতে শিক্ষা পেয়ে আসছেন আমাদের সন্তানরা।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত বিষয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই দুই বিষয়ের পদ পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম বলেন, ‘সংগীত-শরীর চর্চা দেহ ও মনকে সুস্থ রাখে। একজন শিশু যদি গান না শোনে তার মধ্যে তো কল্পনা শক্তি জাগবে না। আমরা জানি, কল্পনা বিহীন মানুষ ও সংস্কৃতি বিহীন মানুষ; মানুষ নয়। যখন একজন মানুষের জন্ম হয় তখন সেটি পশু হিসেবেই জন্ম হয় কিন্তু পরবর্তীতে তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। শিল্প-সংস্কৃতি আমাদের পরিপূর্ণ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই অবিলম্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত বিষয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা থেকে সরে এসেছে পুনর্বহাল করতে হবে।’

এসময় উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমামের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. আবু সাঈদ, ছড়াকার ও সাংবাদিক আকতার হুসেনসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা পর্ব শেষে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক কংকন নাগের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন চলে রাত পর্যন্ত।