• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

নির্বাচন

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বিএনপি–জামায়াতের দাপট, সক্রিয় আরও কয়েক দল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ৩:১৮
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ৩:১৮

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বিএনপি–জামায়াতের দাপট, সক্রিয় আরও কয়েক দল

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
ছবি: প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই আসন বিএনপি–জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবার নতুন কয়েকটি দলও মাঠে সক্রিয় হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আগে থেকেই বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক মুভমেন্ট (এনডিএম) সক্রিয় থাকলেও নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে ভোটের মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, পথসভা, মিছিল ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দলগুলো ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করছে। এর মধ্যে বিএনপি–জামায়াত এখনো সবচেয়ে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

বিএনপির তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম-১৩ আসন জনগণের আস্থায় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা তৃণমূলে গিয়ে সেই পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দল আমাকে যোগ্য মনে করেছে বলেই মনোনয়ন দিয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারব।’

দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় আছি। জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নীতি-আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জনে কাজ করছি।’

নতুন শক্তির মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আনোয়ারা উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী ও জুলুমবিরোধী আন্দোলনের সদস্য লায়ন মোহাম্মদ মাহমুদ উল্লাহ বলেন, ‘গত ৫৪ বছরের পুরোনো রাজনৈতিক ধারা থেকে বের হয়ে আসার সময় এখন। মানুষ নতুন নেতৃত্ব ও নতুন রাজনীতি দেখতে চায়। এনসিপির তরুণ নেতৃত্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।’

তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হলে শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যা সমাধান ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, ‘মানুষ বিভাজন ও ব্যর্থতার রাজনীতি থেকে বের হতে চায়। আমাদের প্রার্থীতা সেই নতুন বার্তাই দিচ্ছে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা এরফানুল হক হালিম আনোয়ারা–কর্ণফুলীকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার করে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক মুভমেন্ট (এনডিএম)-এর কেন্দ্রীয় নেতা এমরান চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময়কাল থেকেই নির্বাচন করে আসছি। ভোটাররা সুযোগ দিলে সংসদে গিয়ে আনোয়ারা–কর্ণফুলীর মানুষদের হয়ে কথা বলব। তাদের প্রত্যাশা পূরণে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বহুদলীয় সক্রিয়তার কারণে এ আসনের ভোটের সমীকরণ আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় জটিল হয়ে উঠেছে। আনোয়ারায় ভোটার সংখ্যা ২,৭৩,৪৩০ এবং কর্ণফুলীতে ১,০৭,৮৯৪—মোট প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটারের মধ্যে আনোয়ারার ভোটই হবে মূল নির্ধারক।

বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, প্রার্থী–নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের মনোভাবই নির্ধারণ করবে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল। দীর্ঘদিনের শক্ত অবস্থানে থাকা বিএনপি–জামায়াতের পাশাপাশি নতুন দলগুলোর বাড়তি সক্রিয়তা ভোটারদের কাছে বিকল্পের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের রাজনৈতিক উত্তাপ শুধু নির্বাচনের আগেই নয়, নির্বাচনের পরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।