• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সিলেটের খবর

সিলেট-২ ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নাকি খেলাফত?

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:২১
আপডেট: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:২১

সিলেট-২ ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নাকি খেলাফত?

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির তাহসিনা রুশদীর লুনা। ২ জামায়াতের অধ্যাপক আবদুল হান্নান। ৩ খেলাফতের মুহাম্মদ মুনতাসির আলী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা। শুরুর দিকে তার মনোনয়ন নিয়ে কিছুটা দ্বিধা তৈরি হলেও শেষে দলীয় ঘোষণার মধ্য দিয়ে এর অবসান হয়। সিলেট জেলায় নারী প্রার্থীর সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবারই প্রথম। এর আগে কোনো সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের কোনোটিতে সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে কোনো নারী মনোনয়ন পাননি। এ ছাড়া তাহসিনা রুশদীর লুনার এটি প্রথম নির্বাচন। ভোটের লড়াইয়ে জিতলে সিলেটের রাজনীতিতে আরেক ইতিহাস গড়বেন তিনি।

তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে আছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবদুল হান্নান ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসির আলী। ভোটের রাজনীতিতে ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ ইলিয়াস আলীর রাজত্বে নির্বাচনি মাঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে সবদিক চষে বেড়াচ্ছে জামায়াত ও খেলাফত মজলিস। এর মধ্য দিয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও দৃশ্যমান হয়েছে। চারপাশে এখন একটাই প্রশ্ন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিবিহীন ভোটের মাঠে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী কে হবে, জামায়াত নাকি খেলাফত?

বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনে মোট ভোটার আছেন ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৫৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮০১ জন। এ আসনটি দেশে বিদেশে পরিচিত নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর আসন হিসেবে।

আসনটিতে ২০০১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইলিয়াস। এরপর ২০০৮ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তার সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, ‘ওয়ান-ইলেভেন ষড়যন্ত্রে’ তাকে হারানো হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের শফিকুর রহমান চৌধুরী এখানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালেও তিনি এখান থেকে ভোটে জেতেন। মাঝখানে ২০১৪ সালে মহাজোটের ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী ও ২০১৮ সালে গণফোরামের মোকাব্বির খান এখান থেকে ভোটে জেতেন। ২০১৮ সালে তাহসিনা রুশদীর লুনা এই আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। কিন্তু তা বাতিল হয়।

প্রায় এক যুগ ধরে নির্বাচনি এলাকায় দল ছাপিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ইলিয়াস আলী একটি আবেগের নাম। সংসদ নির্বাচনে ইলিয়াস আলীর ইমেজ ও তার প্রতি থাকা জনগণের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনি মাঠে অনেকটা অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে রয়েছেন তাহসিনা রুশদীর লুনা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবদুল হান্নান ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির। তারা দুজনও নির্বাচনি এলাকায় প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

জামায়াতের দলীয় নেতা-কর্মী ও প্রার্থী আবদুল হান্নানের ছাত্ররা তাকে নিয়ে নিয়মিত প্রচার করছেন। পাশাপাশি খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসির নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা, সমাবেশ করছেন। তবে ভোটের মাঠে প্রায় এক যুগ ধরে তৎপর লুনা এখন পর্যন্ত সিলেট-২ আসনে নির্বাচনি মাঠে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করছেন।

নির্বাচনি মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা যখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তখন উল্টো চিত্র সিলেট-২ আসনে। এই আসনে ভোটে অংশ নেওয়া তিন প্রার্থীর কেউই নির্বাচনি এলাকায় বসবাস করেন না। প্রার্থীরা মাঝে মধ্যে এলাকায় উঠান বৈঠক, পথসভা, সমাবেশ করলেও সেগুলো দলীয় কর্মী পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে।

ভোটারদের ভাষ্যমতে, দলীয় কয়েকজন নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তাহসিনা রুশদীর লুনা মাঝে মধ্যে কিছু উঠান বৈঠক, সভা করেন। তবে তার স্বামীর যেমন তৃণমূলের সাধারণ ভোটার ও জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল- লুনার সেটা নেই। তাই গুম হওয়া ইলিয়াস আলীর জন্য আবেগ থাকলেও ভোটের হিসাবে সেই আবেগ কাজে না-ও লাগতে পারে। এমনকি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ নেই।

বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর উপজেলার বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী জানান, তিনি (লুনা) এলাকায় থাকেন না। তাই বিভিন্ন সংবাদের জন্য সরাসরি তার বক্তব্য নেওয়া যায় না। বক্তব্যের জন্য মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেন না। তাই সংবাদকর্মীরা এখন আর তাকে কল করেন না। তার বক্তব্যের জন্য প্রতিবেদক একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তার পিএসকে একাধিক কল করার পর তিনি রিসিভ করে বলেন, ‘অপরিচিত ফোন নম্বরের কল লুনা ধরেন না।’

ভোটারদের অনুযোগ আছে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসির আলীকে নিয়েও। তারাও নির্বাচনি এলাকায় বসবাস করেন না। ফলে সাধারণ জনগণের সঙ্গে তাদের দূরত্ব অনেক। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসির আলী ভোটের মাঠে আছেন ইলিয়াস আলীর সময় থেকে। তিনি নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা, সমাবেশ করছেন। তবে ফোনে যোগাযোগ করে তার সঙ্গেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে কল ধরেছেন জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আবদুল হান্নান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি এলাকায় ঘুরে জানতে পেরেছি এখন মানুষ পরিবর্তন চাচ্ছে। বিশেষ করে এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা পরিবর্তন চাইছেন। তারা বলছেন- সব দেখেছি, এবার দাঁড়িপাল্লাকে দেখতে চাই।’

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর জন্য যে আবেগ এলাকার মানুষের আছে সেটা তার স্ত্রীর প্রতি মানুষ দেখাবে না। কারণ ইলিয়াস আলী যেই হোন, তিনি রাজনীতি করে মাঠে এসেছেন। কিন্তু তার স্ত্রীর তো কোনো রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। তা ছাড়া বিএনপির ভোটারদেরই তিনি আটকে রাখতে পারছেন না। দলে দলে অনেক লোক এখন আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। আমি বিশ্বাস করি, আমার নির্বাচনি এলাকার মানুষজন ভোটের মাঠে আবেগতাড়িত হবেন না।’