মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের লড়াই করতে করতে বেগম খালেদা জিয়া আজ মৃত্যুপথ যাত্রী। খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ থাকবে, গণতন্ত্র ফেরত পাব। তিনি বেঁচে থাকলে আমাদের আকাঙ্ক্ষা, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই স্বপ্ন পূরণ হবে।’
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শেখর নগর রায় বাহাদুর শ্রীনাথ ইনস্টিটিউশন মাঠে বিএনপির প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহর সমর্থনে সনাতনী (হিন্দু সম্প্রদায়) আয়োজিত হিন্দু মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশে ধানের শীষ ছাড়া বিকল্প কিছু নেই, যা আছে সেটা সাম্প্রদায়িক শক্তি। তাই এই সাম্প্রদায়িক শক্তি যদি দেশে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তাহলে কী হবে, তা কিছুদিন যাবৎ বুঝতে পারছেন।’
তিনি বলেন, ‘আজকে দেশে আওয়ামী লীগ নাই, পালিয়ে গেছে। সেই আওয়ামী লীগের নেতারাও নাই, তারাও পালিয়ে গেছে।
সুতরাং আমরা লড়াইটা করব কার সাথে? এখন এ ডিভিশনের খেলোয়াড় যদি সি ডিভিশনের সাথে খেলতে হয়। সেই খেলায় তেমন আনন্দ নেই। যারা দর্শক তাদেরও কোনো আনন্দ নাই। তাই সে কারণে আজকে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ওই সাম্প্রদায়িক শক্তি তারা জোট হচ্ছে।
বাংলাদেশে আজকে গণতান্ত্রিক ধারাকে বিসর্জন দিয়ে দেশের বারোটা বাজাতে তারা প্রস্তুত।’
গয়েশ্বর বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ ভয়ংকর, তার রূপ আমরা দেখেছি। কিন্তু সাম্প্রদায়িক শক্তি কত ভয়ংকর তা ফ্যাসিবাদের চেয়ে বেশি। যদি কোনো দিন বিপদে পড়েন, সেদিন আমাদের তিলে তিলে মরতে হবে। একজন ঈমানদার মুসলিমের কাছে একজন হিন্দু যতটা নিরাপদ।
তিনি আরো বলেন, ‘ধর্মে ধর্মে কোনো দ্বন্দ্ব নাই, দ্বন্দ্ব হলো মানসিকতার। সুবিধাবাদী চক্র নানা সময় নানা উছিলায় এক একটা ঘটনাকে দিয়ে আরেকটি ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে এসে নির্বাচন করেন। যেদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তখন আমাদের প্রয়াস ৩১ দফার মধ্য দিয়ে আমরা একটি আধুনিক, মানবিক ও ন্যায়বিচারের রাষ্ট্র কায়েম করব।’
হিন্দু সম্প্রদায়, মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনা ও দোয়া চেয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহ। রামকৃষ্ণ ভক্ত সেবাসংঘ ও আলী আজগর ডিগ্রি কলেজ সাবেক অধ্যক্ষ বিশুদ্ধনন্দ চক্রবর্তী সভাপতিত্বে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও অন্যান্য সনাতনী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।

