জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লালমনিরহাটে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে নির্বাচনি প্রচার ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার সব আসনেই চলছে সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি কর্মকাণ্ড। তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই সবাই জানান দিচ্ছেন নিজেদের সর্বোচ্চ শ্রম ও মেধা খাটিয়ে। গত বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণার পর সেই ব্যস্ততা আরও বেড়েছে। প্রার্থীরা দিন-রাত ছুটে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
দেশের সীমান্তবর্তী এই জেলা নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। লালমনিরহাটের ৩টি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসসহ নির্বাচনমুখী সব রাজনৈতিক দল ও তাদের প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীরা কেন্দ্র ঘোষিত সব কর্মসূচি পালন করছেন যার যার সাধ্যমতো।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, জেলার ৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা লালমনিরহাট-১ সংসদীয় আসন-১৬ এই আসনটি রংপুর বিভাগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। তিন বিঘা করিডোর ও ত্রিদেশীয় সংযোগস্থল বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে সিংহভাগ বাণিজ্য হওয়ায় গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। দুটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৬শ ৮৩ জন।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। জোটগত নির্বাচনের কারণে বিএনপিকে এই আসনটি বরাবর জামায়াতকে ছেড়ে দিতে হয়েছে। ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি এই আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান ৭৪ হাজার ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীও ছিলেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচনি মাঠে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ২০১৮ সালে বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করা ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান। এবারও প্রাথমিক বাছাইয়ে বিএনপি তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। মনোনয়নের পর থেকে দলীয় নেতা-কর্মী নিয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি উঠান বৈঠক, দলীয় মিটিং-মিছিলে সরব হয়েছেন রাজীব প্রধান। হাতিবান্ধা ও পাটগ্রামে নানা উন্নয়নমূলক কাজও করছেন তিনি।
২০২৪ সালে সরকার পতনের পর সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের একক প্রার্থী নির্বাচন করে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামায়াতের প্রার্থী, ঢাকা মহানগর উত্তরের মজলিসে সুরা সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম রাজু। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে গত নির্বাচনগুলোর ভোটের পরিসংখ্যানে এই আসনে জামায়াত এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০০১ সাল ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত এই আসনে ভালো ভোট পায়। পরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও বিএনপির চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে জামায়াত। তাই বিএনপির দলীয় কোন্দল বা গ্রুপিং নিরসন করা না গেলে জামায়াত এই আসনে চমক দেখানোর সক্ষমতা রাখে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়াও এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন শূন্য থেকে উঠে আসা তুরস্ক প্রবাসী উদ্যোক্তা শিহাব আহমেদ। এক সময় সবজি বিক্রি করে লেখাপড়া করে তুরস্কে স্কলারশিপ নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়া শিহাব আহমেদ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের বিভিন্ন সহযোগিতা করছেন। মসজিদ-মাদ্রাসা, নলকূপ, অজুখানাসহ শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে নজর কেড়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার জনমনে নিজেকে উন্নীত করেছেন এই শিহাব আহমেদ। এ ছাড়াও মাঠে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার শাহেদুজ্জামান কোয়েল।

