• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

নির্বাচন

শেরপুর-১ আসন: বিএনপিতে কোন্দল, জামায়াত নির্ভার

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৫:২০
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৫:২০

শেরপুর-১ আসন: বিএনপিতে কোন্দল, জামায়াত নির্ভার

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে মাঠে সরব হয়েছেন শেরপুর-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন শহর থেকে গ্রামে। নানা কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে চাচ্ছেন ভোট, দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। আসনটিতে শুরু থেকে নির্ভার আছে জামায়াত আর অন্তর্কোন্দলে বিএনপি। একদিকে বিএনপির কর্মীরা আসনটি বিএনপির পক্ষে আনতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে শহিদ জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন; অন্যদিকে ভোটারদের নানান কথায় আকৃষ্ট করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে বলছে জামায়াত। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর মধ্যে। ভোটাররা বলছেন, গণতন্ত্র রক্ষা, দেশের উন্নয়নে কাজ করা এবং ভোট দেওয়ার পরিবেশ পেলে যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন তারা।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-১ আসন (জাতীয় সংসদীয় আসন-১৪২) । এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৪৫টি ও ভোটকক্ষ রয়েছে ৮৫৬টি। ভোটার ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১১ জন।

এ আসনে ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী সাংবাদিক মরহুম খন্দকার আব্দুল হামিদ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী সাবেক উপ-সচিব মরহুম মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এরপর আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যায়। দীর্ঘসময় ধরে আসনটি দখলে রেখেছিল জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন বিএনপি মনোনীত জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। এরপর এখনো বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক জেলা যুবদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থী ছিলেন প্রিয়াংকা। তখন তার বয়স ছিল ২৫ বছর। অন্যদিকে মাসুদ ২০১৯ সালে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী হাসান ইমাম ওয়াফি। তিনি জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মরহুম মো. কামারুজ্জামানের ছেলে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী জেলার প্রধান সমন্বয়কারী প্রকৌশলী মো. লিখন মিয়া। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জেলা কমিটির সভাপতি হাফেজ মাওলানা ফারুক আহমদ। খেলাফত মজলিস বাংলাদেশের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল হালিম। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম। গণঅধিকার পরিষদের মনোনয়নপ্রত্যাশী দুজন- জেলা আহ্বায়ক আরিফ আহমেদ ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন সাবেক জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ইলিয়াস উদ্দিন।

বিএনপির ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে দেখেছি, ধানের শীষ প্রতীকের জনপ্রিয়তা ও ভালোবাসা কতটা। ভোটাররা ওই সময় আমাকে যে পরিমাণ ভোট দিয়েছেন তা দেখেই বোঝা গেছে তারা ধানের শীষ এবং আমাকে কতটা ভালোবাসেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমি ভোট কারচুপির প্রতিবাদ করেছিলাম। এবারও আমাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমার বিশ্বাস, শেরপুর সদরের মানুষ এ আসনটি আমাকে তথা বিএনপিকে বিপুল ভোটে উপহার দেবেন। আমি যদি জয়ী হতে পারি, তাহলে নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ তাদের জন্য আলাদা কিছু পরিকল্পনা থাকবে। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কৃষি খাতেও বেশি গুরুত্ব দেব।’

বিএনপির শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর দলের জন্য আমি কাজ করেছি। বলা চলে জীবন বাজি রেখেই কাজ করেছি। কখনো জেলে ছিলাম, কখনো বা পালিয়ে থেকেছি। দলের জন্য সবকিছু উৎসর্গ করেছি। তৃণমূলের মতামত বিবেচনা করে জনপ্রিয় ও যোগ্য নেতৃত্বকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করবে বিএনপি, এটি আমার বিশ্বাস। আমি বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে দিন-রাত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি।’

জামায়াতের হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি জয়ী হলে কেবল জামায়াতে ইসলামীর এমপি হব না। আমি দল-মত নির্বিশেষে জেলাবাসীর এমপি হিসেবে কাজ করব। নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্য খাতে গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে শক্তিশালী করব, যাতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হতে না হয়। পাশাপাশি ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের সহায়তায় শেরপুরের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।’

এনসিপির প্রকৌশলী মো. লিখন মিয়া বলেন, ‘এ আসনের উন্নয়ন থেমে থাকবে না, শুরু হবে নতুন যুগের পথচলা। সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন এবং নিরাপদ জীবনযাত্রা গড়ে তোলাই এনসিপির অঙ্গীকার। জনগণের দোরগোড়ায় উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া ও সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা রয়েছে আমার।’

এবি পার্টির হাসান ইমাম ওয়াফি বলেন, ‘এ আসনের সঙ্গে আমার বাবার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক ধরে রাখতেই আমি সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে কাজ করছি। আমি জয়ী হতে পারলে শেরপুরে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও রেললাইন স্থাপনের দাবি জানাব।’

ভোটাররা জানান, গণতন্ত্র রক্ষা, দেশের উন্নয়নে কাজ করা এবং ভোট দেওয়ার পরিবেশ পেলে যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন তারা।

কুসুমহাটি এলাকার বাসিন্দা রুবেল মিয়া বলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষা করে যিনি দেশের উন্নয়ন করতে পারবেন, এমন মানুষকেই আমি ভোট দেব। কথায় কথায় ভারত ভারত যারা বলেন, তাদের সঙ্গে আমরা নেই।’

একই এলাকার বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা বেশি কিছু চাই না এমপির কাছে। আমরা শুধু চাই আমাদের উন্নয়ন হোক। একটা মেডিকেল কলেজ, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রেল যোগাযোগ, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা; এগুলোই আমাদের চাওয়া। যিনি শেরপুরের উন্নয়নে কাজ করবেন, এমন মানুষকেই ভোট দেব।’

নন্দীরবাজার এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘১৫ বছরের বেশি সময়ে আমি আমার ভোট দিতে পারি নাই। এ সরকারের আমলে কঠোর নির্বাচন হবে শুনছি। আমি যদি ভোট দিতে পারি, তাহলে যোগ্য মানুষকেই ভোট দেব, যিনি আমাদের উন্নয়নে কাজ করবেন, সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন।’

একই এলাকার বাসিন্দা রমজান মিয়া বলেন, ‘ভোট দিতে গেলে তারা (নির্বাচনি কর্মকর্তা) বলতেন, চলে যান আপনার ভোট হয়ে গেছে। এবার যদি ভোট দিতে পারি তাহলে যে উন্নয়ন করবেন, তাকেই ভোটটা দেব।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। কোনো প্রার্থীর অভিযোগ থাকলে তা আমাদের জানাতে হবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ পাশাপাশি গুজবে কান না দেওয়ার জন্য জেলাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান এই কর্মকর্তা।