জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আসন ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্ট মতবিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর সঙ্গে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বৈঠক করছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে সাতটি দলের সঙ্গে বসে দলটি। এতে মাহমুদুর রহমান মান্না, আন্দালিভ রহমান পার্থ, সাইফুল হক ও জোনায়েদ সাকিকে আসন ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া অন্য শরিকদের আরও কয়েকটি আসনে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, গণফোরাম ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) বিএনপির সঙ্গে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বৈঠকে বসে।
নির্ভরযোগ্য দুটি সূত্র জানিয়েছে, বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে, ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ঢাকা-১২ আসনের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং ঢাকা-১৭ আসনে বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। বাকিদের বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে শরিকদের বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, শরিকদের যেসব আসন ছাড় দেওয়া হবে, সেসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দিয়ে থাকলে, তাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। এ ছাড়া যাদের মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, নির্বাচনের পর তাদের সংসদের উচ্চকক্ষে ও জাতীয় সরকারে রাখার চেষ্টা করবে বিএনপি। এর বাইরে কিছু আসনে প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকবে। যেখানে শরিক দলগুলো চাইলে বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।
বুধবারের বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি বৈঠক আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে।
বৈঠক সূত্র জানায়, শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করছে বিএনপির হাইকমান্ড বলে দলগুলোকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া যুগপৎ আন্দোলন থাকা সব দলকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়টি তুলেছেন কেউ কেউ। শরিকদের প্রচার ও গণসংযোগে বিএনপির প্রার্থীরা বাধা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নেতা। বিএনপির পক্ষ থেকে গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে যুগপৎ শরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শরিক দলের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বৈঠকে অনেকটাই আশা-ভরসার বাণী শুনিয়েছে বিএনপি। শরিকদের আসন দেওয়ার ব্যাপারে অনেক আগেই বিএনপি তালিকা নিয়েছে। এরপর তারা ২৭২ আসনে প্রার্থী দিলেও শরিকদের ঝুলিয়ে রাখছে। এতে শরিকরা নির্বাচনি প্রচারে পিছিয়ে পড়ছে। আরও আগে শরিকদের আসনের বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত ছিল।’
নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের দলের চাহিদা ছিল ১০টি আসন। কিন্তু বিএনপি সম্ভব বলে মনে করছে না। তারা দু-একটি আসনে সমর্থন দিতে পারে।’
বৈঠকে ঢাকা-৮ আসনের পরিবর্তে ঢাকা-১২ আসন ছাড় দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রতিটি দলের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান আলোচনা হয়েছে। খোলামেলা ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আমাদের বিকল্প প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে নিয়েছে বিএনপি। এর বাইরে আরও চার-পাঁচটি আসন নিয়ে আলোচনা করেছি।’
গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আলোচনা এখনো চলমান। আমাদের আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না, তারা সমর্থন দেবে বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু আসনে আমাদের নিজস্ব প্রার্থী থাকবে, তাতে বিএনপির কোনো আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছে।’
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে আমরা জোটবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছি। এরপর থেকেই বিগত সময়ের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ভূমিকা রেখেছি। যুগপৎ আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি ও জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়টি তুলে ধরেছি। আমাদের কয়েকটি আসন ছাড় দেওয়ার কথা তুলে ধরেছি। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। তারা পরবর্তী সময় জানানোর কথা বলেছে।’
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল খবরের কাগজকে বলেন, ‘বৈঠকে মূলত নির্বাচনি ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা আটটি আসনের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে কিছু জানানো হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের নিবন্ধন নেই। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে বিএনপি কোনো কমিটমেন্ট করেনি।’
জানা গেছে, বিএনপি আসন ছাড় না দিলে গণতন্ত্র মঞ্চ আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। আগামীকাল শনিবার গণতন্ত্র মঞ্চের বৈঠক রয়েছে। সেখানে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ইতোমধ্যে ১৪১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তারা।

