• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

নির্বাচন

পটুয়াখালী-৩ আসনে নুর, হাসান মামুনে উত্তপ্ত রাজনীতি

প্রকাশ: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:৩৮
আপডেট: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:৩৮

পটুয়াখালী-৩ আসনে নুর, হাসান মামুনে উত্তপ্ত রাজনীতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মো. হাসান মামুন (বায়ে), জামায়াতের প্রার্থী মো. শাহ আলম (মাঝে) ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত। কোলাজ: খবরের কাগজ
পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৩ সংসদীয় আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলেই ছিল। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চিত্রটি ভিন্ন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এই আসনটি এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. হাসান মামুন। তবে তাকে ছাড়িয়ে আলোচনায় এসেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এবং সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি।

বিএনপি এখনো পটুয়াখালী-৩ আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করায় স্থানীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ‘হোল্ড’ করে রাখার সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিএনপির সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের সম্ভাব্য জোট গঠনের গুঞ্জন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গণঅধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, আসনটি তাদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জন্য ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই দাবির পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়তে থাকে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প প্রার্থী তারা মেনে নেবেন না। মনোনয়ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র বাক্যবিনিময়। পরে এর প্রভাব পড়ে মাঠ পর্যায়েও। এ সময় হাসান মামুনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

এ বিষয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. হাসান মামুন বলেন, যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁতভাঙা জবাব দেব। দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। পটুয়াখালী জেলা, গলাচিপা ও দশমিনার নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবে যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, নির্বাচনী জোটের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে যদি ভবিষ্যতে জোট হয়, সে ক্ষেত্রেও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা নিজ দলের প্রতীক ‘ট্রাক’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

অন্যদিকে এই আসনে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। উচ্ছেদে বসতবাড়ি হারিয়ে তার স্থায়ী নিবাস ধ্বংস হলেও আবারও পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে পারেন তিনি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তবে বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে তার তেমন সক্রিয়তা বা জনসমর্থন চোখে পড়ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম মাওলা রনি বলেন, না না ইলেকশন করবো না।

এদিকে পটুয়াখালী-৩ আসনে অন্য দলগুলোও প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক মো. শাহ আলম এবং জমিয়াতে উলামায়ে ইসলাম থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা মো. মোতাহার উদ্দিন। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম ইতিমধ্যে গলাচিপা ও দশমিনায় দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে জোট হলে তিনি নুরুল হক নুরের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অধ্যাপক শাহ আলম বলেন, আমাদের বিষয় সুস্পষ্ট আমরা মনোনয়ন পাওয়ার পর হাটে-বাজারে, গ্রাম-মহল্লা, বাড়িতে বাড়িতে গিয়েছি আমাদের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, আলহামদুলিল্লাহ আমাদের প্রত্যাশার থেকে প্রাপ্তি অনেক বেশি। আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাআল্লাহ। তবে আমাদের এআসনে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রার্থী যারা রয়ে,ছেন তারা বিভিন্ন সভায় শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকলে গণতন্ত্রের চর্চা আরও ভাল হতো।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাভাবিক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে এ আসনে কে বিজয়ী হবেন, তা এখনই বলা কঠিন। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় বিএনপি কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে নুরুল হক নুরের জন্য পটুয়াখালী-৩ একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু। ফলে আসনটি দখলের লড়াই হবে বহুমুখী। সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছেই।

দলীয় মনোনয়ন ও সম্ভাব্য জোট নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটাতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটাররা।