নোয়াখালী থেকে
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব ও আবেগময় রাজনৈতিক বাস্তবতা। যেখানে ব্যালটের লড়াইয়ে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছেন একই পরিবারের সদস্যরা। স্বামী বনাম স্ত্রী, আবার বাবা বনাম ছেলে। রাজনীতির ময়দানে এমন দৃশ্য হাতিয়ার ইতিহাসে বিরল। যা ইতিমধ্যে পুরো এলাকায় সৃষ্টি করেছে ব্যাপক আলোচনা, কৌতূহল ও আবেগের ঢেউ।
এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম এবং তার সহধর্মিণী শামীমা আজিম উভয়েই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। ভোটারদের চোখে এটি শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং সম্পর্ক ও আদর্শের এক ব্যতিক্রমী পরীক্ষা। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন সাধারণ জীবনযাপন করা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক এবার বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এর আগে কখনো সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও হঠাৎ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার প্রার্থিতা অনেককেই বিস্মিত করেছে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বয়ং ছেলে আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে সংগঠিত প্রস্তুতি ও প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। ফলে একই পরিবারের বাবা ও ছেলের মুখোমুখি অবস্থান হাতিয়ার রাজনীতিতে যোগ করেছে নতুন ও অনন্য মাত্রা।
এই ব্যতিক্রমী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে পুরো এলাকায় চলছে আবেগমিশ্রিত আলোচনা। অনেক ভোটারের মতে, এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়, আত্মসম্মান, সাহস এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয় ভোটারদের মতামতও স্পষ্টভাবে বিভক্ত। কেউ বাবার সিদ্ধান্তকে সাহসী ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, রাজনীতি কারও একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। বয়স, অভিজ্ঞতা কিংবা পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে জনগণের সামনে দাঁড়ানোর অধিকার সবার রয়েছে। আবার অনেকে ছেলের সংগঠিত রাজনৈতিক প্রস্তুতি, দলীয় সম্পৃক্ততা ও অভিজ্ঞতাকেই এগিয়ে রাখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা,
একই পরিবারের একাধিক সদস্যের এই অপ্রত্যাশিত প্রার্থিতা ভোটের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আবেগ, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা মনে করছেন। একইসঙ্গে এই নির্বাচন হাতিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন নজির স্থাপন করবে।

