বিনোদন ডেস্ক
২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক মো. আদনান জুলফিকার শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এ বিষয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বলেন, আমরা দু’জনের পক্ষে আদালতে জবাব দাখিল করেছি। আদালতকে বলেছি মামলার ৭৯ লাইনের বক্তব্য সাজানো ও মনগড়া। বাদীর সঙ্গে মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাইয়ের কখনো দেখা হয়নি। হুমকি-ধমকির কোনো প্রশ্নই আসে না। শুনানি শেষে আদালত তাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে মামলাটি নথিজাত করেছেন। এদিন মেহজাবীন ও তার ভাই আলিশান আদালতে উপস্থিত হন। এর আগে গত ১০ই নভেম্বর পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও হুমকি-ধমকি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ই ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। পরে ১৬ই নভেম্বর মেহজাবীন ও তার ভাই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছিলেন। গতকাল আদালতে বাদী আমিরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী রায়হান গাজী বলেন, আসামিরা ধার্য তারিখে না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা হয়। আমরা জবাব পাইনি। এই আসামি মামলার বাদীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে হুমকি দিয়েছেন। এ সময় বিচারক বাদীকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনাকে কে হুমকি দিয়েছে? বাদী বলেন, উনারা হাতিরঝিল এলাকায় আমাকে হুমকি দিয়েছেন। তখন বিচারক বলেন, মেহজাবীন হুমকি দিয়েছেন? বাদী বলেন, না, তার ভাই হুমকি দিয়েছেন। বিভিন্ন অপরিচিত লোক দিয়ে তিনি হুমকি দিয়েছেন। বিচারক জানতে চাইলে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, আমরা তাকে (বাদী) কখনোই দেখিনি। তাকে চিনি না। তার সঙ্গে কোনোদিন কথাও হয়নি। বাদী কোনোভাবেই প্রমাণ দিতে পারেননি। বিকাশ-নগদের মাধ্যমে যে ২৭ লাখ টাকা নেয়ার কথা বলা হয়েছে, এটার বিষয়ে কোনো প্রমাণও নেই। এ সময় বিচারক বলেন, এই মামলায় বিষয় ২৭ লাখ টাকা না, এটা হুমকি দেয়ার মামলা। এখানে বিচার্য বিষয় হচ্ছে আপনারা তাকে হুমকি দিয়েছেন কি না? তখন মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই মাথা নেড়ে বলেন, ‘না’। বিচারক বলেন, আর ভবিষ্যতে হুমকি দেবেন কি না? তখন মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, হুমকি দেয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। পরে বিচারক এই মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেন। এর আগে এই মামলার অভিযোগে বলা হয়, আমিরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থে এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেয়ায় আমিরুল বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে আজকে দেবো, কালকে দেবো বলে কালক্ষেপণ করে। পরবর্তীতে গত ১১ই ফেব্রুয়ারি বিকালে পাওনা টাকা চাইতে যান তিনি। তাকে ১৬ই মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি আমিরুলকে জীবননাশের হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম ২৪শে মার্চ বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

