• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

নির্বাচন

গাইবান্ধা ৫বিএনপি-জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, বিপাকে জাপা ও স্বতন্ত্ররা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:৪২
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:৪২

গাইবান্ধা ৫বিএনপি-জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, বিপাকে জাপা ও স্বতন্ত্ররা

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছেন প্রার্থীরা। এ আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী ফারুক আলম সরকার ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেছ আলী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙ্গল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ (হাঁস) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৯৮২ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এ আসনটি জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও দলীয় ভাঙন ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে জাতীয় পার্টির অবস্থান আগের মতো নেই। অন্যদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়ায় এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণে বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এমতাবস্থায় এবারের নির্বাচনে সবমিলিয়ে ৯ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের সামনের সারিতে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। বিএনপি’র অবস্থান তুলনামূলক ভালো হলেও দলের বহিষ্কৃত দাপটশালী নেতা নাহিদুজ্জামান নিশাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। ফলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বিভাজনের রাজনীতি। দলের একাংশ ধানের শীষের পক্ষে থাকলেও অন্য অংশ হাঁস প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে বিএনপি’র মূলধারার প্রার্থী বিপাকে পড়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দুই উপজেলার ১০ জনেরও অধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কোনো কোনো নেতাকে সতর্কবার্তাও দেয়া হয়েছে। বহিষ্কার এবং সতর্কবার্তাকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন বলেও জানা যায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়া বিএনপি’র নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মতলুবর রহমান রেজা জানান, মূলত দলের হাইকমান্ডের ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণেই পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাই বাধ্য হয়ে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফলই বলে দেবে কারা সঠিক পথে আছে। অন্যদিকে, বিএনপি’র মূলধারার উপজেলা নেতারা বলেন, যে সকল নেতাকর্মীরা দলের বিপক্ষে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন, তারা দলের আদর্শ এবং নৈতিকতাবিরোধী। এবার সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাঘাটা-ফুলছড়ি (গাইবান্ধা-৫) আসনেও ধানের শীষের পক্ষে তুমুল জনসমর্থন ও গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে। তাই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে কেউই ধানের শীষের বিজয় ঠেকাতে পারবে না। জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজনের প্রভাব পড়েছে প্রচারণাতেও। দলটির প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারী নিজ এলাকা গাইবান্ধা-১ এর পাশাপাশি গাইবান্ধা-৫ আসনেও প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন এবং প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। শামীম হায়দার পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট গোলাম শহীদ রঞ্জু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন। অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মতো বিভাজন না থাকায় একক প্রার্থী হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ স্বস্তিতে সংগঠনের দুই উপজেলার সকল নেতাকর্মী সমর্থকদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিনিয়ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ও হাট-বাজারে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এভাবেই সকল প্রার্থী নিজ নিজ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের নিকট গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। এর পাশাপাশি জনগণের চাহিদামাফিক উন্নয়নের শপথ গ্রহণ করছেন প্রার্থীরা।