জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) আসনের নির্বাচনী মাঠে বিএনপি’র দুই নেতা আনিসুল হক ও কামরুজ্জামান কামরুলের ঐক্যে নতুন গতি এসেছে। “আনিসুল-কামরুল ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই” এই স্লোগানকে সামনে রেখে একসঙ্গে প্রচারণায় নামায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়ন না পেলেও মান-অভিমান ভুলে দলীয় প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি নেতা আনিসুল হক। বর্তমানে তিনি কামরুজ্জামান কামরুলের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটে প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা এখনো কাটেনি। জোটের প্রার্থী কে এ প্রশ্নে চলমান টানাপড়েনে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি’র দলীয় মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান এবং ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার। বিএনপিতে শুরু থেকেই এ আসনে মনোনয়ন নিয়ে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রথমে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-যুগ্ম সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হককে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। পরে শেষ মুহূর্তে জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুলকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়। এরপর দু’জনই দলীয় চিঠিসহ মনোনয়নপত্র জমা দেন।
শেষ পর্যন্ত প্রতীক বরাদ্দের আগের রাতে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয় কামরুজ্জামান কামরুলকে। এতে আনিসুল হকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও দু’দিন পর কামরুজ্জামান কামরুল আনিসুল হকের বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে আনিসুল হক দলীয় চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্ত মেনে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে থাকার ঘোষণা দেন এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বিএনপি নেতা আনিসুল হক বলেন, দলের দুঃসময়ে আমি কখনো মাঠ ছাড়িনি। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছি। বিএনপি দলীয় প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আনিসুল হক আমার বড় ভাই ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, বিজয়ী হলে চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলসহ শিক্ষা এবং সড়ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবো। এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে নাটক এখনো চলমান। শুরুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর নাম আলোচনায় আসে। পরে ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে গেলে ধারণা করা হয় জামায়াতের জেলা আমীর তোফায়েল আহমদ খানই জোটের প্রার্থী হবেন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জানানো হয়, আসনটি জোটের শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং মুজ্জাম্মিল হক তালুকদারকে জোট প্রার্থী করা হয়েছে। এ ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়ে জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জেলা কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তোফায়েল আহমদ খানসহ কয়েকজন নেতাকে কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ফলে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। গত বুধবার জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তোফায়েল আহমদ খান বলেন, কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় আসনটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশনাতেই তিনি মাঠে রয়েছেন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার বলেন, জোটের একমাত্র প্রার্থী আমি। জামায়াত প্রার্থী নাটক করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। তিনি বলেন, সমালোচনাকারীরা ১২ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, ফলাফল তখনই পরিষ্কার হবে।

