• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

রাজনীতি

বিএনপি ধর্মীয় সহনশীলতায় বিশ্বাসী, সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে আগাতে চাই: সালাহউদ্দিন

প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:০৮
আপডেট: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:০৮

বিএনপি ধর্মীয় সহনশীলতায় বিশ্বাসী, সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে আগাতে চাই: সালাহউদ্দিন

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি ধর্মীয় সহনশীলতায় বিশ্বাসী এবং সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চায়। এটি বিএনপির রাজনৈতিক সংকল্প, অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চকরিয়ার মালুমঘাট চা-বাগানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “১৯৯২ সালে যারা উপাসনালয়ে হামলা চালিয়েছিল, তারা যদি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে তাদের বর্তমান আচরণ দেখলেই বোঝা যায়—কেউই নিরাপদ থাকতে পারবে না।”

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ১৮ কোটি জনগণকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। এক সঙ্গে সবার কর্মসংস্থান সম্ভব না হলেও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে তা বিদেশে রপ্তানি করা গেলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। এজন্য কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এতে বিএ পাস করেও কাউকে বেকার বসে থাকতে হবে না এবং সবাই রাষ্ট্রকে রাজস্ব দিতে পারবে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের জনগণ ধানের শীষের পক্ষে রায় দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব বিএনপির হাতে তুলে দেবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পেকুয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের আয়োজিত এক পথসভায় তিনি বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও জুলুমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “আমি খোঁজ নিচ্ছিলাম—আপনারা কেন আমাকে এখানে ডেকে এনেছেন। আজ বুঝতে পেরেছি। পেকুয়া বাজার আমি নিলাম ডাকমুক্ত করে দিয়েছিলাম। বাজারসংক্রান্ত সব ডকুমেন্টস আমি পর্যালোচনা করব।”

বাজারে গরু-ছাগল উঠলেই বিক্রি হোক বা না হোক টাকা আদায়ের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বিক্রি না হলে টাকা নেওয়া অযৌক্তিক। বাজারে প্রবেশের জন্য গরু-ছাগলের টাকা নেওয়াও বন্ধ করতে হবে। আজ থেকে এ ধরনের টাকা আর দেওয়া যাবে না। বিক্রি হলে টাকা দেওয়া হবে, না হলে নেওয়া মানেই জুলুম।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই জুলুম চলতে থাকলে প্রয়োজনে পুরো বাজার ডাকমুক্ত করে দেওয়া হবে। আমার কাছে রেকর্ড আছে—আমি এমপি থাকাকালে কাঁচা বাজার ও মাছের বাজার ডাকমুক্ত করেছিলাম। শুধু কোরবানির সময় গরুর জন্য সামান্য হাসিল নেওয়া হতো।”

দরিদ্র মানুষের ওপর অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাঁস-মুরগি, সবজি, পানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের সঙ্গে অন্যায় করা চলবে না।

বাজারের ডাক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন থেকে একবার, দুইবার ও তিনবার ডাক দেওয়া হবে। তিনবারের পর স্বল্প দামে ডাকের ব্যবস্থা করা যাবে। জোর করে টাকা আদায় করা যাবে না।”

পেকুয়াকে পৌরসভায় উন্নীত করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “উন্নয়ন, অগ্রগতি ও প্রগতির দায়িত্ব আমার ওপর ছেড়ে দিন। তবে ধানের শীষে ভোট দিন, যাতে আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকতে পারি।”

ডুলাহাজারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনি সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া, অধ্যক্ষ এস এম মনজুর, অধ্যাপক ছাবের আহমদ, অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন ও নাজেম উদ্দিন প্রমুখ।

এছাড়া মালুমঘাট এলাকার চা-বাগান ব্যাপ্টিস্ট চার্চ মাঠে চার্চের পালক থিউপিল মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পৃথক পথসভায় বক্তব্য দেন যোসেফ অমূল্য রায়, মিন্টু দাশ, কাজল মল্লিক, বিএনপি নেতা মাস্টার আনোয়ার হোসাইন, অধ্যক্ষ এ এম ফরিদুল আলম চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন ও সাংবাদিক এম আর মাহবুবসহ অনেকে।