আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে লুটপাটের রাজনীতি ফিরিয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির এখন আর রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা নেই।’ তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশ পরিচালনার পরিবর্তে চাঁদাবাজি, টেন্ডার লুট, বন্দর দখল এবং ব্যাংক লুটের রাজনীতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. অলি আহমদ বলেন, ‘আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম এবং দীর্ঘদিন দলটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি। তবে সময়ের সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি এমন এক পর্যায়ে গেছে, যেখানে দলটির রাজনৈতিক চিকিৎসা প্রয়োজন।’
বিএনপির ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে তারা উন্নয়ন নয়, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত হবে। চট্টগ্রাম বন্দর দখল, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট এবং ব্যাংক খালি করার রাজনীতি আবারও শুরু হবে।’
১১ দলীয় জোটকে ঘিরে অপপ্রচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘একটি মহল পরিকল্পিতভাবে প্রচার করছে, এই জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে।’এসব অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, কারও ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না। বরং যারা নিজের ধর্মীয় মূল্যবোধই ঠিকভাবে অনুসরণ করে না, তারাই অন্যের ধর্মে হস্তক্ষেপ করে থাকে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. অলি আহমদ বলেন, ‘১২ তারিখ পর্যন্ত যা করার আছে, করে নিন। ভোটের দিন জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবে এবং ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে লুটপাটের রাজনীতি বন্ধ করবে।’
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আনোয়ারা একটি সম্ভাবনাময় এলাকা হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। শিল্পকারখানা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান হয়নি, নারীদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।’
নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জুবায়েরুল আলম মানিক বলেন, ‘যারা সংস্কারের প্রশ্ন এড়িয়ে শুধু ভোটের রাজনীতি করছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। যেভাবে জনগণ একসময় আওয়ামী লীগকে লাল কার্ড দেখিয়েছে, তেমনি এবারও লাল কার্ড দেখানো হবে।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মাওলানা ইসমাঈল হক্কানী। যৌথ সঞ্চালনায় ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা ও কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবুল হাসান খোকা ও নুরউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, নেজামে ইসলাম বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মাওলানা জিয়াউল হুসেইন জিয়া, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমীর হাফেজ মাহবুবুর রহমান হানিফ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও ছাত্রশিবিরসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতারা বক্তব্য দেন।













