• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

মতামত

বিএনপি: মূর্খদের সমন্বিত নামঃ ব‍্যারিস্টার রফিক আহমেদ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:৩৩
আপডেট: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:৩৩

বিএনপি: মূর্খদের সমন্বিত নামঃ ব‍্যারিস্টার রফিক আহমেদ

মাইক, মঞ্চ ও মগজশূন্যতার মহাকাব্য

বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে যদি “বিভ্রান্তি” নামে কোনো অলিম্পিক ইভেন্ট থাকত, তাহলে বিএনপি নিরঙ্কুশ স্বর্ণপদক পেত। কারণ তাদের নির্বাচনী প্রচারণা কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়—এটা এক চলমান মানসিক দুর্ঘটনা।

মঞ্চে উঠেই এক বক্তা ঘোষণা দেন,
“শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তারেক রহমানের স্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া।”
এই একটি বাক্যেই তিনটি জীবিত মানুষ, একটি মৃত মানুষ, একটি মুক্তিযুদ্ধ আর একটি বৈবাহিক সম্পর্ক একসাথে সমাধিস্থ হয়। ইতিহাস এখানে শুধু বিকৃত নয়—নির্যাতিত।

আরেকজন বক্তা আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন,
“আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আবাদীদল করি।”
রাজনীতি বাদ দিয়ে হঠাৎ ফসল ফলানোর চিন্তা—এটা অবশ্য ভালো উদ্যোগ। তবে ভোট চাইতে এসে ধান-কলা-গমের দল বানানো প্রমাণ করে, বক্তার মাথায় যা আছে তা চাষযোগ্য, কিন্তু বুদ্ধি নয়।

এরপর আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যখন বিএনপির মঞ্চে দাঁড়িয়ে কেউ চিৎকার করে ওঠে,
“জয় বাংলা!”
শ্রোতারা তখন ভাবেন—এই লোকটা কি পথ হারিয়েছে, নাকি মগজটাই ভাড়া দিয়ে এসেছে?

কেউ আবার গম্ভীর কণ্ঠে বলেন,
“আমাদের নেত্রী শেখ খালেদা জিয়া।”
এই বক্তব্যে দুই রাজনৈতিক ধারাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়—যেখানে বর-কনে দুজনেই অস্বীকৃত, আর কাজী অজ্ঞান।

সবশেষে যখন বলা হয়,
“জননেত্রী শেখ খালেদা জিয়া দেশ স্বাধীন করেছেন,”
তখন বোঝা যায়—এখানে ইতিহাস বই নিষিদ্ধ, যুক্তি ঐচ্ছিক, আর অজ্ঞতা বাধ্যতামূলক।

এই সব বক্তব্য বিচ্ছিন্ন কোনো ভুল নয়। এটা একটি ধারাবাহিকতা। বিএনপির নির্বাচনী মঞ্চে বক্তৃতা দিতে হলে তিনটি যোগ্যতা লাগে—
১. ইতিহাস না জানা
২. নেতাদের নাম গুলিয়ে ফেলা
৩. মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে নির্লজ্জ আত্মবিশ্বাস

এই আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ অজ্ঞতা যখন আত্মবিশ্বাস পায়, তখনই তা রাজনৈতিক বক্তৃতা হয়ে ওঠে।

তাই বিএনপি আজ আর শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়। এটি এক ধরনের সমন্বিত মূর্খতা প্রকল্প—যেখানে অল্প জ্ঞান, বেশি আওয়াজ আর সীমাহীন বিভ্রান্তি একত্রে জাতির সামনে পরিবেশিত হয়।

দেশের মানুষ এখন আর প্রশ্ন করে না, “বিএনপি কী বলছে?”
মানুষ প্রশ্ন করে, “আজকে কোন ইতিহাসটা মারা গেল?”