• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

নির্বাচন

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে ২৯ নেত্রীর দৌড়ঝাঁপ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬ ৬:২৫
আপডেট: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬ ৬:২৫

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে ২৯ নেত্রীর দৌড়ঝাঁপ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি পদকে ঘিরে রাজশাহী বিভাগজুড়ে তৎপরতা বেড়েছে। বিভাগের আট জেলায় অন্তত ২৯ নারী নেত্রী মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছেন। কেউ ঢাকায় অবস্থান করছেন, কেউ আবার দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করছেন। ত্যাগী রাজপথের নেত্রী থেকে শুরু করে তরুণ সংগঠক সবাই তাকিয়ে আছেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

রাজশাহী বিভাগে মোট সংসদীয় আসন ৩৯টি। এর মধ্যে ২৮টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি এবং ১১টিতে জয়ী হয়েছে জামায়াতে ইসলামী জোট। চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনের কোনোটিতেই বিএনপি জয়ী হতে পারেনি; জেলাটি পুরোপুরিই জামায়াতের দখলে। ফলে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে এ জেলাকে বিশেষ বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে বিভাগের অন্য জেলার নেত্রীরাও সমানভাবে আশাবাদী।

রাজশাহী
এ জেলায় আলোচনায় রয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী মাহমুদা হাবিবা, মহিলা দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রোখসানা বেগম টুকটুকি, সাবেক নারী এমপি জাহান পান্না এবং অ্যাডভোকেট শামসাদ বেগম মিতালী।

মাহমুদা হাবিবা ২০০৫ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি জি-নাইন (গ্রুপ-২০০৯)-এর ফাউন্ডার মেম্বার ও বর্তমানে দলের মিডিয়া সেলের সদস্য। কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রত্যাশা–যোগ্যতা ও ত্যাগ বিবেচনায় দল মূল্যায়ন করবে।

জাহান পান্না অষ্টম জাতীয় সংসদে নারী এমপি ছিলেন। বর্তমানে তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। শামসাদ বেগম মিতালী জেলা মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রোখসানা বেগম টুকটুকিও রাজপথের সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন।

বগুড়া
সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এই জেলরায়। আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট শাহাজাদী লায়লা আরজুমান বানু, নাজমা আকতার, সুরাইয়া জেরিন রনি, অ্যাডভোকেট রহিমা খাতুন মেরী, নিহার সুলতানা তিথি ও কোহিনুর আক্তার। সুরাইয়া জেরিন রনি জানান, ১৭টি মামলায় আসামি হয়ে তিনবার কারাবরণ করেছেন। দুঃসময়ে মাঠে থাকার মূল্যায়ন দল করবে–এটাই প্রত্যাশা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ

এ জেলায় আলোচনায় রয়েছেন সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, দিলসাদ তহমিনা বেগম মিমি, মাসুদা আফরোজ হক শূচি, সায়মা খাতুন ও শাহানাজ খাতুন।

পাপিয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলের দুই বারের ভিপি ছিলেন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক।

শাহানাজ খাতুন জেলা মহিলা দলের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও ভোলাহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। ছয় মামলায় আসামি হয়ে তিনবার কারাবরণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দুঃসময়ে পিছপা হইনি, সুযোগ পেলে সংগঠনকে আরও গতিশীল করব।’

নাটোর
সম্ভাব্যদের তালিকায় আছেন সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, মহুয়া নূর কচি, সানজিদা খাতুন ও ডেইজি আহমেদ। সাবিনা ইয়াসমিন ছবি বর্তমান এমপি এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর স্ত্রী। মহুয়া নূর কচি প্রয়াত বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুর স্ত্রী। সানজিদা খাতুন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ডেইজি আহমেদ সিংড়া উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী।
নওগাঁ ও জয়পুরহাট

নওগাঁয় আলোচনায় রয়েছেন জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামিনা পারভীন পলি। জয়পুরহাটে আগ্রহীদের মধ্যে আছেন পারভীন বানু রুলি ও জাহেদা কামাল। পারভীন বানু রুলি বলেন, ‘১৫ বছর আন্দোলনে সক্রিয় থেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। সুযোগ পেলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে চাই।’

পাবনা
এ জেলায় আলোচনায় রয়েছেন পূর্ণিমা ইসলাম, খায়রুন নাহার খানম মিরু, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা ও ডা. শাহানা বানু। পূর্ণিমা ইসলাম চার মেয়াদে জেলা মহিলা দলের সভাপতি ছিলেন। মিরু ঢাকা বদরুন্নেসা কলেজের সাবেক ভিপি। আরিফা সুলতানা রুমা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য।

সিরাজগঞ্জ
আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান, কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা ও মোমেনা আলী। সিমকী ইমাম খান দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। সার্বিক বিষয়ে দলের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত খালেক বলেন, ‘জনসংখ্যা ও সংসদীয় আসনের অনুপাতে সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দেওয়া হবে। কারা মনোনয়ন পাবেন, সে সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারকরা। ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয়েই মনোনয়ন দেওয়া হবে।’