• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

বাংলাদেশকে উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার সুযোগ এসেছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪১
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪১

বাংলাদেশকে উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার সুযোগ এসেছে: মির্জা ফখরুল

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশকে উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার সুযোগ এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘নতুন সংসদের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে এবং সংসদ সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। আমরা যারা গণতন্ত্র, উদার গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, তাদের সবাইকে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক ও উদার রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) ইফতার ও আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গণমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করে একটি মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত। আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া যে, আজ আমরা একটি মুক্ত পরিবেশে আবার সাংবাদিক ভাইদের সঙ্গে ইফতারে মিলিত হতে পেরেছি। এই প্রেসক্লাব আমাদের অনেক সংগ্রাম, লড়াই ও স্মৃতির সাক্ষী। সেই স্মৃতি যেমন সংগ্রামের, তেমনি আস্থারও। সাংবাদিকদের কাছ থেকে অতীতে যে সহযোগিতা পাওয়া গেছে তা সবসময় স্মরণ রাখা হবে।’

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপিকে গণমাধ্যমের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মুক্ত গণমাধ্যম সবার প্রত্যাশা। সবাইকে এই বিশ্বাস নিয়ে কাজ করতে হবে যে, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে। সাংবাদিকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়।’

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে বর্তমানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের সমর্থন ও আস্থার ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ এসেছে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তিনি সবসময় গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতেন। আজ আমাদের দুর্ভাগ্য, তিনি এখন আমাদের মাঝে নেই। পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার জন্য বেহেশত প্রার্থনা করছি।’

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে অনেক সাংবাদিক নির্যাতিত হয়েছেন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতি যেন ভবিষ্যতে না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।’

গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘কোনো মব কালচার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় না। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় গণমাধ্যমের শক্তিশালী ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো অর্জিত গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। আর এই সংসদীয় ও সাংবিধানিক রাজনীতির সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যম, এই তিনের সমন্বয়ে দেশ এগিয়ে যাবে।’

ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন ও মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ডিইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান প্রমুখ।