• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

ক্রীড়া কার্ড চালু, মাসে কত টাকা পাবেন খেলোয়াড়রা

প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ ৯:১৩
আপডেট: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬ ৯:১৩

ক্রীড়া কার্ড চালু, মাসে কত টাকা পাবেন খেলোয়াড়রা

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত

ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে প্রথম পর্যায়ে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড দিয়েছে সরকার। বেতনের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সম্মাননাও প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় ১২৯ ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন তিনি। প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এ সময় এক লাখ টাকা পৌঁছে যায়।

সাফ ফুটসালজয়ী নারী দল, কাবাডি, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলার খেলোয়াড়রা ২০ ডিসিপ্লিনের ১২৯ ক্রীড়াবিদ এ কর্মসূচির আওতায় সম্মাননা পেয়েছেন। এ কর্মসূচির ফলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন যুগের সূচনা হলো। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই স্লোগান বাস্তবে রূপ নিল।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ক্রীড়াবিদরা এখন থেকে বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। তবে ক্রিকেট বোর্ড স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এ তালিকার বাইরে থাকবেন।

পরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, যেসব ক্রীড়াবিদ বেতনের আওতায় আসবেন, প্রতি চার মাস পরপর তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারলে তারা এই সুবিধা অব্যাহত রাখতে পারবেন। আর পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখা দিলে তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।

তিনি আরও জানান, এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

খেলোয়াড় বন্ধুরা রাজনীতি না করে খেলায় মন দিন: প্রধানমন্ত্রী

কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি না হয়ে মাঠের খেলায় মন দেওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার তেজগাঁওয়ে নিজের কার্যালয়ে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমনটি বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড় বন্ধুরা, আপনাদের সবার প্রতি আমার একান্ত অনুরোধ—পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন এবং হবেন না। বরং ক্রীড়ানৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন, দেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন বা ব্যায়ামের অংশ নয়; বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অ্যাকাউন্ট্যান্সি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা লিগ্যাল প্রফেশন যেমন পেশা, ঠিক একইভাবে স্পোর্টসও একটি পেশা। পৃথিবী যখন এভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, নিশ্চয়ই বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকতে পারে না; আমরা ইনশা আল্লাহ পিছিয়ে থাকব না।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের স্কুলে যেমন অঙ্ক, ইংরেজি, ভূগোল ও ইতিহাস আবশ্যিক হিসেবে পড়তে হয়, আমরা চাচ্ছি, শিশু যে খেলাটিই পছন্দ করুক, সেটি তাকে খেলতে হবে। সেটাতে তাকে দক্ষ হতে হবে, নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ ইতিহাস, ভূগোল ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি আমরা খেলাধুলাকেও আবশ্যিক করব।’

তারেক রহমান বলেন, ‘যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি, সে আসলে কিছুই করেনি। তার মানে সে কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেনি, চেষ্টাই করেনি। আপনাকে জয়ী হতে হলে কিছু একটা করতে হবে।’

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে বেতনকাঠামোর আওতায় এনেছে সরকার। রোববার ১২৯ জন খেলোয়াড়ের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারীদের দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।

ক্রিকেট বোর্ড স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এ তালিকার বাইরে থাকবেন। তবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, আগামী এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন খেলোয়াড়কে বেতনকাঠামোর আওতায় আনা হবে।