• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

বিশেষ কলাম

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: সুযোগ, যোগ্যতা ও বাস্তবতার সমন্বয়

প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:১০
আপডেট: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:১০

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: সুযোগ, যোগ্যতা ও বাস্তবতার সমন্বয়


বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হওয়ায় রাজনীতিতে তাদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

তবে এই অগ্রগতির ভেতরে আরও কিছু বিষয় গভীরভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। বিশেষ করে, সুযোগের বণ্টন কতটা যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এখানে “যোগ্যতা” বলতে শুধু পদ বা পরিচয় নয়—বরং জনগণের জন্য কাজ করার সক্ষমতা, দায়িত্ববোধ, ইতিবাচক মানসিকতা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর চিন্তা প্রয়োগ করার দক্ষতাকে বোঝায়। যারা সত্যিকার অর্থে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন, উন্নয়নের ভাবনাকে কাজে রূপ দিতে পারেন—তাদেরই সামনে আসা প্রয়োজন।

রাজনীতিতে এমন অনেক নারী আছেন, যারা দীর্ঘ সময় ধরে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন—রাজপথে, সংগঠনে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। আবার অনুকূল সময়ে নতুন অনেক মুখ যুক্ত হওয়াটাও স্বাভাবিক বাস্তবতা। তবে একটি টেকসই রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি, যাতে দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অভিজ্ঞতা উপেক্ষিত না হয়।

কারণ রাজনীতি কেবল উপস্থিতির বিষয় নয়; এটি আস্থা, সততা এবং দায়বদ্ধতার জায়গা। এখানে বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি প্রয়োজন নৈতিকতা ও আন্তরিকতা—যাতে সিদ্ধান্তগুলো সত্যিকার অর্থেই দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজে আসে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকা কর্মীরা যেন যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন পান। একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই স্বীকৃতি শুধু প্রাপ্যই নয়, বরং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের জন্য অপরিহার্য।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ তখনই অর্থবহ হয়ে উঠবে, যখন এটি হবে স্বাভাবিক, যোগ্যতাভিত্তিক এবং সম্মানজনক—যেখানে প্রতিটি অবদান সঠিকভাবে মূল্যায়িত হবে এবং দেশ ও জনগণের উন্নয়নই হবে মূল লক্ষ্য।

লেখক:
ইয়াসমিন আক্তার
সংবাদকর্মী।