• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

শিশু রামিসা হত্যা: ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সারা দেশ

প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬ ৩:০৯
আপডেট: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬ ৩:০৯

শিশু রামিসা হত্যা: ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সারা দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি
ফাইল ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার শিকার ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তিনি রামিসার বাসায় গিয়ে তার মা-বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানিয়ে জড়িতদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। একই ঘটনায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এ নৃশংস হত্যার ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে একটি অনুষ্ঠানে এই প্রসঙ্গে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নৃশংস এই ঘটনার বিচার আইনিভাবেই হতে হবে।

এদিকে রামিসা আক্তারকে বীভৎসভাবে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ওই ঘটনায় জড়িত খুনিদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল মিরপুর-পল্লবী এলাকায় শিশু শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।

পাশাপাশি শাহবাগ, ধানমন্ডি, বাংলামোটরসহ ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের বিবৃতিসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসংখ্য মানুষ ওই নির্মমতার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করে জড়িতদের বিচারে রাষ্ট্রকে দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকে মন্তব্য করেন, বিগত সময় এমন কিছু ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়ায় এ ধরনের বর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবশ্য এ ঘটনায় গতকাল সরকারের পক্ষ থেকেও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।

বাকি বিচারের দায়িত্ব আইন বিভাগের। আমরা আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্রুত চার্জশিট দিয়ে অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শাস্তির বিষয়টি আদালত নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন রামিসা, আসিয়া, তনু হত্যাকাণ্ড, বগুড়ায় তরুণী ধর্ষণ এবং গাজীপুরের ফাইভ মার্ডারসহ সাম্প্রতিক আলোচিত সব হত্যাকাণ্ডের তালিকা তৈরি করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর সংস্কারও করা হবে। সরকার খুব বেশি সময় পায়নি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে, এ জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে।

এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ আইনমন্ত্রীর
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও গতকাল সচিবালয়ে শিশু রামিসা হত্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, এ হত্যার ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশার জবাব হবে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে। তিনি জানান, রামিসা হত্যার বিচার হবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে।

এ ছাড়া আরেক আলোচিত আসিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় কার্যকর না হওয়ার প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আসিয়ার ঘটনায় সাত দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল, এক মাসের মধ্যে বিচারও শেষ হয়েছিল। এর চেয়ে দ্রুত বিচার করতে গেলে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের আগে ডেথ রেফারেন্স সুপ্রিম কোর্টে অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হয়। হাইকোর্ট বিভাগে পেপার বুক প্রস্তুতের একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা রয়েছে, যা অনেক সময় বিলম্বের কারণ হয়। তিনি বলেন, ‘আসিয়ার মামলাটা আমাদের কাছে একটা এক্সাম্পল। ওটা এক মাসের মধ্যে শেষ করেছিলাম। ওই এক্সাম্পল ধরে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি, চিন্তা করব।’

দেশে বিচার জটের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন। এত বিপুল মামলা রাতারাতি নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। তবে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

নৃশংস এই ঘটনার বিচার আইনিভাবেই হতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
একই বিষয়ে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে কথা বলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারে কেউ কেউ ক্ষোভে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কথা বলছেন। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। নৃশংস এই ঘটনার বিচার আইনিভাবেই হতে হবে।

খুনিদের বিচারের দাবিতে মিরপুরে বিক্ষোভ
গতকাল সকালে পপুলার মডেল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যার বিচারের দাবিতে তার বাসার সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পরে মিরপুর-১১ নম্বরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন অংশগ্রহণকারীরা। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। মিছিলে অংশ নেওয়া শিশু শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ও ‘জাস্টিস ফর রামিসা’ স্লোগান দেয়। এ সময় তাদের হাতে বিচারের দাবিতে লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

মিরপুর এ এইচ মডেল স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো শিশু এমন ঘটনার শিকার না হয়, সে জন্য খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এই নৃশংস ঘটনায় আমরা সংহতি জানাতে এসেছি। বিচার দীর্ঘায়িত হলে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়বে, অনেকেই সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাবেন। তাই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এ ঘটনার নিষ্পত্তির দাবি জানাই।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলেন, ‘রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা খুনিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং সে এর দায়ও স্বীকার করেছে। এর পরও দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা রাজপথে নেমেছেন।

‘জাস্টিস ফর রামিশা’ ব্যানারে শাহবাগে বিক্ষোভ
শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। রাজধানীর শাহবাগে গতকাল বিকেলে ‘জাস্টিস ফর রামিশা’ ব্যানারে ওই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও যৌন সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন একদল বিক্ষোভকারী। বিক্ষোভে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও যৌন অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে এবং একই ধরনের অপরাধ পুনরাবৃত্তি করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ে মানববন্ধন
রামিসাসহ সব শিশুহত্যা, শিশু-নির্যাতন বন্ধ ও বিচারের দাবিতে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ছায়ানট’ এর সংস্কৃতি-সমন্বিত সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রম– নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ের উদ্যোগে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

গতকাল বিকেলে আয়োজিত ওই প্রতিবাদ মানববন্ধনে নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ের শিশু, অভিভাবক ও কর্মীদল অংশ নেন। ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের সামনের সড়কটি ছিল এক বুক ক্ষোভ, আর নিষ্পাপ এক শিশুর অকালমৃত্যুর তীব্র যন্ত্রণা।

নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে সেখানে গানে গানে প্রতিবাদ জানায় নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কোনো রাজনৈতিক চত্বর নয়, সুর আর শব্দের মেলবন্ধনে তারা জানিয়ে দেয়- এই বর্বরতা আর নিতে পারছে না সমাজ।

রংপুরে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের মানববন্ধন
রাজধানীতে শিশু রামিসা হত্যাসহ সারা দেশে নারী ও শিশুদের ওপর ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে রংপুরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের রংপুর মহানগর সংগঠক ও ছাত্রনেতা রিনা মুরমু।

এতে নেতারা বলেন, রামিসার মতো হত্যাকাণ্ডে দেশের শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা স্পষ্ট হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

চলতি বছরে ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার, গভীর উদ্বেগ আসকের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সম্প্রতি দেশে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার একের পর এক ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আসক মনে করে–এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং সামাজিক জবাবদিহির সংকটের প্রতিফলন। বিশেষ করে পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারের নির্মম হত্যাকাণ্ড আমাদের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে।

আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত কমপক্ষে ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে কমপক্ষে ৪৬ শিশু এবং ধর্ষণ পরবর্তী এবং ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কমপক্ষে ১৭ শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদে শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ, সুরক্ষা ও বৈষম্যহীন বিকাশকে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে শিশুদের প্রতি সব ধরনের সহিংসতা, যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে বাধ্যবাধকতার মধ্যে রয়েছে। তবুও বাস্তবতা হলো, বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল তদন্ত শিশুদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

গভীর উদ্বেগ-প্রতিবাদ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের
গতকাল এ সংগঠনটির পক্ষ থেকে শিশু স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারসহ শিশুদের ওপর পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ, আগামীর বাংলাদেশের কান্ডারী। কিন্তু গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও চরম ঘৃণাভরা বেদনায় আমরা লক্ষ্য করছি–আজকের বাংলাদেশ আমাদের শিশুদের জন্য এক ভয়াবহ অনিরাপদ ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি শিশুদের জীবনকে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এনসিপির মশাল মিছিল
শিশু রামিসাসহ সব ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল রাতে বাংলামোটর মোড়ে দলটির কার্যালয়ের সামনে এই মশাল মিছিলে ঢাকা মহানগর উত্তর ওয়াহিদুজ্জামান সুমন বক্তব্য দেন।